<?xml version='1.0' encoding='UTF-8'?><?xml-stylesheet href="http://www.blogger.com/styles/atom.css" type="text/css"?><feed xmlns='http://www.w3.org/2005/Atom' xmlns:openSearch='http://a9.com/-/spec/opensearchrss/1.0/' xmlns:georss='http://www.georss.org/georss' xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'><id>tag:blogger.com,1999:blog-32545972</id><updated>2011-07-31T07:14:03.012+06:00</updated><title type='text'>সময় নির্মাণ</title><subtitle type='html'>মোরা এক জীবন, দুই জীবন করে গেঁথে গেঁথে নির্মাণ করি এই সময়...</subtitle><link rel='http://schemas.google.com/g/2005#feed' type='application/atom+xml' href='http://shomoinirman.blogspot.com/feeds/posts/default'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/32545972/posts/default?max-results=100'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shomoinirman.blogspot.com/'/><link rel='hub' href='http://pubsubhubbub.appspot.com/'/><author><name>Bhoot Baba</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><generator version='7.00' uri='http://www.blogger.com'>Blogger</generator><openSearch:totalResults>7</openSearch:totalResults><openSearch:startIndex>1</openSearch:startIndex><openSearch:itemsPerPage>100</openSearch:itemsPerPage><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-32545972.post-9038300032889110588</id><published>2009-11-17T03:14:00.001+07:00</published><updated>2009-11-17T03:58:52.609+07:00</updated><title type='text'>অন্তর: যেভাবে বাসা বাঁধে ইসলাম</title><content type='html'>ইসলামী আন্দোলন! শব্দ দু'টি খুব মৌখিক ও লৌকিকভাবে খুব একটা পছন্দ করতে পারতাম না; কিন্তু অন্তরে অন্তরে একটা টান অনুভব করতাম সেই ছোট্টবেলা থেকে। ব্যাপারটা কয়েকবার টের পেয়েছি। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১.&lt;br /&gt;তখন প্রতিটি বিকেল ছিল ভলিবল, ক্রিকেট, গোল্লাছুট, ব্যাটমিন্টন খেলার তুমুল হৈহুল্লোড়ে ঊশৃংখল এবং দাবা খেলার কৃত্রিম ভাবনায় গুরুগম্ভীর। বিকেল বেলায় মনেই থাকতো না যে, আমি একজন মুসলমান। তখন মুনীরকে দেখতাম এমন মহা আনন্দময় সময়ে সব ফেলে মসজিদের পানে যাচ্ছে; কেননা তার আসরের নামাজ পড়া লাগবে। একটু আশ্চর্য হয়েই তাকাতাম তার দিকে, সেই রেশ না পুরাতেই শুনতে পেতাম আমার প্রতিও তার নামাযের আহ্বান। মনটা হঠাৎই একটু ধার্মিক হয়ে উঠতো, তারপর বন্ধুদের হুল্লোড় আর মুনীরের প্রতি ছুঁড়ে দেয়া নানা ঠাট্টার সাথে সাথে বদলে যেতাম আমিও এবং ওদের সাথে সুর মিলিয়ে তখন আমিও বলে বসতাম- “ও, তুই তো আবার শিবির করিস্”।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২.&lt;br /&gt;ছিমছাম লম্বা যুবকটি আমার বেশ ক’বছরের সিনিয়র। রীতিমত কলেজে পড়ে। শারিরিক গঠনের কারণে হোক কিংবা স্বভাব; তিনি বরাবরই শান্ত শিষ্ট ভদ্রলোক সেজে থাকতেন। কোন প্রকার হৈচৈয়ে নেই। একদিন পথের ধারের পুকুর পাড়ে ডেকে বসালেন। আল্লাহ্, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন ইত্যাদি বিষয়ে হালকা হালকা কিছু ধারণা দিতে চেষ্টা করলেন এবং একটি বই পড়ার প্রস্তাব করলেন। মনে পড়ে, বইটির নাম ছিল ‘ইসলামের হাকীকত’। বইটি দিলেন, বাড়ীতে গিয়ে টেবিলে রেখে দিলাম। তারপর ভুলেই গেলাম যে, কেউ আমাকে একটি বই পড়তে দিয়েছে। বেশ কিছুদিন পর ফেরৎ চাইলেন আর আমিও ফেরৎ দিয়ে দিলাম। আজকাল বইটি পড়ার পর বাংলাদেশের জনপ্রিয় ক’জন আলেমের মত মন্তব্য করতে না পারলেও তাদের কথাগুলো অন্তরে কেবলি বাজে- ‘এত এত পড়াশোনা করলাম, কিন্তু ইসলামকে এভাবে বুঝতে পারিনি যেভাবে সাইয়েদ আবুল ‘আলা মওদূদী রাহিমাহুল্লাহ্ হাকীকত সিরিজের বইগুলোতে বুঝিয়েছেন’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৩.&lt;br /&gt;এসএসসি পরীক্ষার তখনো এক বছর বাকী, তবে কেন্দ্রে গিয়েছি ঠিকই; পরীক্ষা দেখতে। কি আর দেখা, দিঘীর ওপারে কেন্দ্র আর আমরা দল বেঁধে স্বজন ও উৎসাহীরা এপারে বসে তিন ঘন্টা মিনিট মিনিট করে গুনছি। শুনে আসছিলাম ক’দিন থেকেই নাকি পাশ্ববর্তী কলেজে শিবির ও ছাত্রলীগের মধ্যে বিরাজ করছে উষ্ণ সম্পর্ক, ছাত্রদলও নাকি নিরব সমর্থন দিচ্ছে লীগকে। তারপর সেদিন কথা নেই বলা নেই হঠাৎই কানে এলো মিছিলের শব্দ- “লড়াই লড়াই লড়াই চাই! লড়াই করে বাঁচতে চাই!! বিপ্লব বিপ্লব! ইসলামী বিপ্লব!! আল্লাহর আইন চাই! সৎলোকের শাসন চাই!!” ইত্যাদি। ক্ষণকাল পর আরেকদল ছাত্র (লীগ ও দল) ইট পাটকেল নিয়ে হানা দিল মিছিলের পেছন থেকে। এ যেন প্রতারকদের যুদ্ধ জয়ের অপকৌশল। খালি হাতের মিছিলকারীরা নিজেদেরকে ইটের মণ্ডপে বলী দেয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যে যেদিকে পারলো ছুটে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নিল। একটি ছেলে লাফ দিয়ে কেন্দ্র তথা স্কুলের বাউন্ডারীর ভেতর ঢুকে দেয়ালের সাথে সেঁটে থাকল। হানাদার ছাত্ররা দেয়াল টপকিয়ে উঠতে চাইল ছেলেটাকে মারার জন্য, স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাদেরকে ঢুকতে না দেয়ায় রক্ষা পেল ছেলেটি। ঘটনাটি দেখার পর থেকে ছোট্ট মনে নানা ভাবনার উদয় হতে লাগল। শুনেছি যে মুসলমানদের এদেশেও ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলার মত অনেক লোক আছে, তাদের নামও মুসলমানী ঢঙে। কিন্তু ইসলামকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে চাওয়ার অপরাধে মার খেতে হয় বাংলাদেশের মত মুসলিম দেশেও; সেই প্রথম দেখা হল। জানিনা কেন, কোনভাবেই মনে নিতে পারলাম না পেছন থেকে এসে কাপুরুষের মত হামলা করা লীগ ও দলের ছাত্রদের এহেন আচরণ। তবে আপাততঃ ঝোঁকের বশে শব্দ করেই মনকে বুঝালাম- “ধুর, ওরা হল শিবির, রগকাটার দল, রাজাকার, উপরে উপরে ভাল ভেতরে দুষ্ট” ইত্যাদি প্রবোধে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৪.&lt;br /&gt;জীবনের প্রথম সনদপত্র প্রাপ্তির জন্য পরীক্ষা, গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করতাম, কেন্দ্র বহুদূর, গাড়ীচড়া পথের দূরত্ব। আমাদের মত ছাত্রছাত্রীরা কেন্দ্রের চারপাশের কোন আত্মীয়ের বাড়ী কিংবা স্থানীয়দের বাড়ীতে অনুরোধ করে আশ্রয় নেয় পরীক্ষার দিনগুলোর জন্য। তেমনিভাবে আমিও নিলাম, কেন্দ্র না হলেও কলেজের পাশাপাশি একটা বাড়ীতে আমার স্থান হল। সেদিন বিকেল বেলা ক’জন বন্ধুর সাথে বেরুলাম অগ্রহায়নের সদ্য জাগা সবুজ মাখা বিকেলের বাতাস খেতে। পথটি ছিল মাঠের মাঝে, দু’পাশে নতুন সবুজ ধান গাছ। চলতে চলতে স্থানীয় একটি ছেলের সাথে দেখা, বেশ সিনিয়র; দেখেই বুঝে নিলাম। স্বেচ্ছায় আলাপ জমালেন, তারপর বসা হয়ে গেল সবুজ ঘাসের মাদুরে এবং চলতে থাকল আলাপ চারিতা তখনো যখন সন্ধ্যা নামে। নানাভাবে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াত পেশ করলেন তিনি। কেউ বুঝেছি, কেউ বুঝিনি, কেউ উসখুস করেছি পালানোর ভাবনায় ইত্যাদি। কিন্তু মনের গভীরে কোথায় যেন আটকে গেছিল যুবকের কথাগুলো। যেন মন থেকে কেউ বলছে- ‘তুমি মুসলমান, ইসলামকে শুধু নামে চিনলেই হবে না, চিন্তা-বিশ্বাস-কর্মে চিনতে হবে তোমাকে’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজ ইসলাম আমার কাছে ধরা দিয়েছে তার স্বমহিমায়। আর আমাকে করেছে মহিমান্বিত যমীনে ও আকাশে। তবে আমি নিশ্চিত, যমীনে এর ধরন অনেক কঠিন, কঠোর, দুর্গম এবং আকাশে অনন্ত শান্তির....। প্রার্থনা শুধু এই, শেষ দিন পর্যন্ত আমি যেন আল্লাহর বান্দা থাকতে পারি নিজের পক্ষ থেকে ও আল্লাহর পক্ষ থেকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;-১৬ নভেম্বর ২০০৯&lt;br /&gt;মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/32545972-9038300032889110588?l=shomoinirman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shomoinirman.blogspot.com/feeds/9038300032889110588/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=32545972&amp;postID=9038300032889110588' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/32545972/posts/default/9038300032889110588'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/32545972/posts/default/9038300032889110588'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shomoinirman.blogspot.com/2009/11/blog-post.html' title='অন্তর: যেভাবে বাসা বাঁধে ইসলাম'/><author><name>Fazle Elahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-32545972.post-2086755217565579180</id><published>2008-10-30T01:30:00.000+06:00</published><updated>2008-10-30T01:31:20.350+06:00</updated><title type='text'>@ লালনের মূর্তির মত সকল মূর্তি অপসারিত হোক! সময়ের দাবী!!</title><content type='html'>ইসলাম পৃথিবীতে এসেছে মানুষের গোলামী থেকে মানুষকে মুক্তি দিয়ে একমাত্র বিশ্বস্রষ্টা আল্লাহর গোলামে পরিণত করার জন্য। কেননা, যিনি স্রষ্টা, যিনি রিযিকদাতা, যিনি জীবনদাতা, যিনি মৃত্যুদাতা এবং জীবনের পূর্বে, জীবনকালে ও জীবনের পরবর্তীতে যাঁর কাছে আমরা পরিপূর্ণরূপে অসহায়, যাঁর ক্ষমতায় আমরা তুচ্ছ থেকেও তুচ্ছতর, তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করাই প্রকৃত বুদ্ধিমান মানুষের কাজ। পরন্তু জীবনের পথ পাড়ি দিয়ে দিয়ে আমরা তো তাঁর কাছেই ফিরে যাচ্ছি, তাঁরই সাক্ষাতে। সুতরাং তাঁকে ভালবেসে, তাঁর বাধ্য হয়ে, একমাত্র তাঁকেই বিনয়-শ্রদ্ধা-ভালবাসা তথা একমাত্র তাঁরই ইবাদাতের মধ্যে নিহিত রয়েছে মানবজাতির ইহ ও পরকালীন মঙ্গল। একথা যে মানুষ যত গভীরভাবে বুঝতে পেরেছে, উপলব্ধি করতে পেরেছে এবং কর্মে তার বাস্তবায়ন করেছে; সে তত বেশী সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে।&lt;br /&gt;মানুষের প্রভূত্ব থেকে মানুষকে মুক্তি দানের জন্য ইসলামের আগমণ; যা বয়ে এনেছেন সর্বশেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ থেকে চৌদ্দশ' বছরেরও বেশী কিছু কাল পূর্বে। মানুষ কিভাবে মানুষের উপর প্রভুত্ব করে? এ প্রশ্নের জবাবে মৌলিকভাবে কয়েকটি দিক হতে পারে- ১) সরাসরি প্রভু হিসেবে নিজেকে পেশ ও প্রতিষ্ঠিত করা, ২) যোগ্যতা ও বস্তুর প্রভাবে প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠিত করা ও ৩) বিভিন্ন আবেগ-অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠিত করা।&lt;br /&gt;আসা যাক, মানুষের উপর মানুষের প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠার এ তিনটি দিকের পর্যালোচনায়- এক) সরাসরি প্রভু হিসেবে নিজেকে পেশ ও প্রতিষ্ঠিত করা: পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাস খুঁজলে দেখা যায় যে, এ দাবী পেশ করেছিল ফির'আওন। সে ছিল তৎকালীন মিসরের রাজা, প্রবল প্রতাপাম্বিত হবার পর সে তার দেশবাসীকে বলেছিল: أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى "আমিই তোমাদের বড় প্রভু" [সূরা আন-নাযি'আত: ২৪]। তার সে প্রভুত্ব ভ্রান্ত প্রমাণিত হলো যখন সে নীলের পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছিল। পৃথিবীবাসীর জন্য আল্লাহ্ সেই স্বঘোষিত "বড় প্রভু"র ধ্বংসাবশেষ আজো ঝুলিয়ে রেখেছেন মিসরের পূরাকীর্তি পিরামিডের অভ্যন্তরে সে যুগের মানুষকে মমি বানানোর প্রযুক্তি দানের মাধ্যমে। এই জ্বলজ্যান্ত উদাহরণের মানদণ্ডে খুঁজে দেখলে আজো দেখা যাবে পৃথিবীতে বহু ফির'আনের আনাগোনা চলছে। কোন কোন ফির'আওন বিশ্বপ্রভু হবার স্বপ্ন দেখছে বিশ্বায়নের বাস্তবায়নের মাধ্যমে। আবার কেউ দেখে গেছে কিংবা আজো দেখছে যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে, যেমনটি একদার হিটলার। এ পর্যায়ের উদাহরণ বুঝা অনেক সহজ করে দিয়েছেন আল্লাহ্ তা‘আলা কুরআনে ফির'আওনের উদাহরণ পেশ করার মাধ্যমে।&lt;br /&gt;দুই) যোগ্যতা ও বস্তুর প্রভাবে প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠিত করা: সোভিয়েত আমলের রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারের মাধ্যমে প্রচারিত বেশ কিছু উপন্যাস দেখা যায় এখনো। যেগুলোতে বিভিন্নভাবে স্রষ্টাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের পাঁয়তারা করা হয়েছিল বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মাধ্যমে। তান্মধ্যে একটার কথা বলি- যেখানে দেখানো হয়েছে যে, একজন সার্জন বিভিন্ন প্রাণীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অদল-বদল করে নানা অদ্ভুত প্রাণী সৃষ্টি(?) করেছে। পড়ে আমার কাছে দারুন হাস্যকর ঠেকেছে। ভাবলাম যে, এরা কি চায় আসলে? নিজেদের পাগলামীর প্রতিষ্ঠা নাকি আসলেই কোন একটা আদর্শের প্রতিষ্ঠা? পৃথিবীর এই সুসামঞ্জস্য পদ্ধতির পরিবর্তন দেখিয়ে স্রষ্টা সাজার অভিলাষ যে কত বড় মূর্খতা আর তা যে কি ভয়াবহ পরিণাম ডেকে আনবে সে ব্যাপারে হয়ত সেই কল্পকাহিনীর লেখক ভাবার অবসরই পাননি। এমন বিধ্বংসী চিন্তার মানুষদের হাতে পৃথিবীকে ছেড়ে দিলে তারা খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই পৃথিবীকে মানুষের জন্য বসবাসের অযোগ্য করে তুলবে; এমনকি প্রাণীজগৎও সে ধ্বংসের হাত থেকে রেহাই পাবে না।&lt;br /&gt;সে যাক, যোগ্যতা মানুষের আছে এবং সে অনেক কিছুই করতে পারে এর মাধ্যমে। কিন্তু যত বড় যোগ্যতাধারীই হোক না কেন এবং যত বড় কিছুর সম্পাদকই হোক না কেন, যদি সে তার নিজের যোগ্যতার উৎস খুঁজে না পায়; তবে তার মত অসহায় আর কাউকে খুঁজে পাবে না কোথাও কেউ। সে জানে না কে তার জীবন-মৃত্যু-যোগ্যতা-অভিজ্ঞতা-চিন্তাশক্তি ইত্যাদির সুতো ধরে বসে আছেন, কখন টান দেবেন আর তখন তার যাবতীয় শক্তি-যোগ্যতা ধুলোয় মিশে যাবে সে নিজেসহ! এর চেয়ে অসহায়ত্ব আর কি থাকতে পারে। পরন্তু তার জন্য এতটুকু সান্ত্বনাও নেই যে, কে এসবের মূলে রয়েছেন। কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার, বিজ্ঞানী, গবেষক, বিধান রচনাকারীরাও এ পর্যায়ে শামিল। যেমন, আমাদের দেশীয় এক নাট্যাভিনেত্রীর খাহেশ হয়েছিল যে, তিনি কবি রবীন্দ্রনাথের পূজা করবেন; এমনকি তিনি সবাইকে সে উপদেশও প্রদান করেছিলেন।&lt;br /&gt;বস্তুর ব্যাপারটিও এখানে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অর্থসম্পদ, পেশীশক্তি, অস্ত্রবল, জনবল কিংবা কোন জাগতিক আবিস্কার হতে পারে প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার। যেমন, আমাদের দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে এক শ্রেণীর এনজিও অর্থ সাহায্য করার মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রভুত্বের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। বাহ্যিক ভাবে এই প্রভুত্ব বিশ্বস্রষ্টা কিংবা যীশুখৃষ্টকে প্রদর্শন করলেও আসল প্রভু যে সেই দাতারাই সেজে থাকেন, তা কোন দৃষ্টিমানের কাছেই লুক্কায়িত নেই। বিশ্বনীতিতে আজ তো গুটিকতক দেশই কেবল পরমাণূ শক্তিধর হতে পারবে বলে নিজেরা নিজেরা সালিশী ডেকে ঠিক করে নিয়েছে এবং রায় ঘোষণা করেছে, আর বাকী সব দুর্বল দেশের উপর প্রভুত্বকে ভাগাভাগি করে নিয়েছে। কোথাও কেউ শিল্পের অগ্রগতি কিংবা বাস্তবিকই স্বদেশ সুরক্ষার জন্য চুল্লি বসালে তারা এসে চোখ রাঙায়, হুমকি দেয়, এমকি হামলে পড়ে বিনাশ সাধন করে নিরপরাধ শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ অগুণতি বনী আদমের। একে কি করে কেউ প্রভুত্বের সংজ্ঞা থেকে বাদ দিতে পারবে? পরন্তু পৃথিবীর নানা প্রাযৌক্তিক উদ্ভাবনের মনীষীগণকে তো গদগদ কণ্ঠে অনেকেই প্রভুর আসনে সমাসীন করে দিয়ে থাকেন। ষ্টিফেন হকিংয়ের বাণীকেও ওহীতুল্য কিংবা তারচেয়েও অধিক গুরুত্ব দেয়ার লোক খুঁজতে বোধহয় খুব বেশী দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে না।&lt;br /&gt;মোদ্দাকথা, এই শ্রেণীর মানুষেরা অন্যদের চোখে চমক সৃষ্টি করতে পারেন নিজেকে দিয়ে, নিজেদের যোগ্যতা দিয়ে। তারা চান বা না চান; মানুষেরা তাদেরকে প্রিয় ভাবতে শুরু করে, তারপর এই প্রিয় একসময় বদলে যায় শ্রদ্ধায়, শ্রদ্ধার বেলুনটি হাওয়ায় হাওয়ায় ফুলতে ফুলতে একসময় 'ভগবান' হয়ে উঠে। তারপর জীবিত হলে পায়ের ধুলো কুড়োতে কুড়োতে সিজদার কাছাকাছি পৌঁছে যায় মানবতার উন্নত শির আর মৃত হলে কবরে, স্মৃতিস্তম্ভে বা মূর্তি বানিয়ে তাতে ফুল চড়িয়ে, বিনয় নম্রতা প্রদর্শন করে; এমনকি কেউ কেউ বিপদে আপদে তাদের নাম স্মরণ করে কিংবা সরাসরি ডেকে সাহায্য প্রার্থনার মাধ্যেম তাদের ইবাদাতে মশুগুল হয়ে উঠে। এভাবেই এই শ্রেণী তাদের যোগ্যতা ও বস্তু বলে মানুষের উপর তাদের প্রভুত্ব কায়েম করে থাকে। তবে এক্ষেত্রে এহেন বিভ্রান্তি শুধুমাত্র তাদের বেলাতেই ঘটে, যাদের কাছে নেই কোন সুস্পষ্ট জীবন বিধান, সত্য-মিথ্যার মানদণ্ড, মানবতার পরিচয় বিধি, স্রষ্টার পরিচয় সম্বলিত কোন অকাট্য ঐশী বাণী; প্রকৃত মুসলমানগণ এই ভয়ংকর পতন প্রতিরোধে অব্যর্থ নিরাপদ, কেননা তাদের কাছে রয়েছে আল-কুরআন।  তিন) বিভিন্ন আবেগ-অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠিত করা: এই পর্যায়ে এসে কাকের বাসায় কোকিল ডিম পেড়ে উত্তরাধিকার অর্জনের মত অবস্থা হয়ে থাকে। খাজা বাবা কখনো বলে যাননি যে, তার কবরের উপর বিশাল প্রাসাদ নির্মাণ করা হোক, বলেননি সড়ক পরিবহনের মোড়ে মোড়ে ডেকচি বসানো হোক, লালন শাহ্ জীবিতাবস্থায় কখনো বলে যাননি যে, তার জন্য মূর্তি নির্মাণ করা হোক, বলে যাননি শেখ মুজিব কিংবা আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারাও; তবে কেন ভাস্কর্যের নামে তাদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে মূর্তি? তাদেরও ছিল ধর্ম বিশ্বাস। তারা যদি মূর্তিপূজারী ধর্মে বিশ্বাসী হয়ে থাকে এবং মূর্তিপূজারীরা যদি তাদের মূর্তি বানিয়ে থাকে তবে সেটা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় ব্যাপার, সে ব্যাপারে কথা নেই। কিন্তু মুসলিম নেতা, মুসলিম দরবেশ কিংবা মুসলিম বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে কেন অপমানিত করা হচ্ছে তাদের মুর্তি নির্মাণ করার মাধ্যমে। তাদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী তো এসবের মাধ্যমে তাদের পরকালীন জীবনকে তাদের উত্তরসূরীরা আরো অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে! যার প্রমাণ, কেয়ামতের কঠিন অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মানুষেরা যখন বিভিন্ন নবীদের কাছে যাবেন, তখন ঈসা আলাইহিস্ সালাম জবাব দেবেন এই বলে যে, আমাকে পৃথিবী থেকে উঠিয়ে নেয়ার পর আমার উম্মতেরা আমাকে আল্লাহর পুত্র বানিয়ে বসেছিল, তাই তা নিয়ে আমি নিজেই শংকিত যে আল্লাহ্ সে কারণে আমার সাথে কি ব্যবহার করেন! [হাদীসের ভাবার্থ থেকে]।&lt;br /&gt;অথচ আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এ নির্মম সত্যকথাগুলো কেউ বলতে গেলেই সে নাস্তিকদের কাছে হয়ে যাবে ধর্মান্ধ, মৌলবাদী। লালন সুফী জগতের মানুষ, ইসলামের মৌলিকতার সাথে তার দর্শনের সংঘাত অনেক। কিন্তু সে তো মুসলিম জনগোষ্ঠীর একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন, হিন্দু ধর্মের কোন পূজ্য দেবতা ছিলেন না। তবে কেন তার মূর্তি নির্মিত হবে? ঠিক একই কায়দায় আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দের এবং মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণার্থে তাদের মূর্তি নির্মাণ করা সেসব মৃত মানুষদের প্রতি বিরাট অন্যায়, অমার্জনীয় জুলুম। এর প্রতিবাদ করা উচিত, এসবকে প্রতিহত করা মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব। অন্ততঃ সেসব মুসলিম পরিবারের দায়িত্ব; যাদের পূর্বসূরীদের মূর্তি নির্মাণ করা হচ্ছে। কেননা, তাদের পরকালীন একটি জীবন রয়েছে, তাদের প্রতি করুণা করে হলেও সেদিকটা ভাবা দরকার।&lt;br /&gt;এখন ভেবে দেখার বিষয় যে, তারা যদি জীবিতাবস্থায় বলে না গিয়ে থাকেন তবে কেন তাদের জন্য মূর্তি নির্মিত হচ্ছে? এর জন্য খৃষ্টজগতের প্রতি দৃষ্টিপাত করাই যথেষ্ট হবে। কেন খৃষ্টানগণ ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহর পুত্র সাব্যস্ত করেছিল? গীর্জায় গীর্জায় তাঁর মূর্তি স্থাপন করে প্রভু হিসেবে এক আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে যীশুখৃষ্টের কাছেও প্রার্থনা করা হচ্ছে? মরহুম আহমাদ দীদাত প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন সমগ্র খৃষ্টজগতের প্রতি যে, আমি বললাম তোমাদের বর্তমান বাইবেলে আল্লাহর নাযিল করা একটি শব্দও নেই, সব তোমাদের বানানো; পারলে আমার এই চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা কর! খৃষ্টজগত ব্যর্থ হয়েছে তার এই প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ্যের মোকাবেলায়। কিভাবে হয়েছে তাদের এই অধঃপতন? তাদের আলেম সমাজের সাথে আঁতাত হতো শাসক গোষ্ঠীর, তারা বিক্রিত কিংবা বাধ্য ছিল শাসক শ্রেণীর কাছে। তাই যত অপরাধ শাসক গোষ্ঠী করতো, সেসবকে ধর্মের চাদরে ঢাকার জন্য বছর বছর তারা তাদের ধর্মগ্রন্থে পরিবর্তন আনতো। এভাবেই কালক্রমে স্রষ্টা প্রদত্ত ইঞ্জীল শরীফ তাদের বর্তমানের বানানো বাইবেলে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। যার প্রমাণ মিলবে পাশ্চাত্য জগতে নিষিদ্ধ করা "বার্নাবাসের বাইবেল" এর সাথে তাদের প্রচলিত বাইবেলের পার্থক্যসমূহে।&lt;br /&gt;তাহলে কি দাঁড়ালো অর্থ? এ পর্যায়ের প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠার মূলে ক্রিয়াশীল ছিল এক শ্রেণীর ধূরন্ধর স্বার্থবাদী মহল, এক শ্রেণীর চক্রান্তকারী, সুবিধাভোগী কিংবা শত্রু। এরা আকাশে আরোহণকারী ঈসা আলাইহিস সালামের ব্যক্তিত্বকে পুঁজি করে তাঁর নামে মিথ্যা রটিয়ে যেমন পৃথিবীতে তাদের নিকৃষ্ট অভিলাষের বাস্তবায়ন ঘটিয়েছে, তেমনি আমাদের সমাজ-সংস্কৃতিতেও এক শ্রেণীর ঘরোয়া শত্রু-যারা বিক্রিত সামান্য অর্থের বিনিময়ে-পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী আগ্রাসী শত্রু এবং দাতাগোষ্ঠীর নামে বর্তমান "সংস্কৃতির যুদ্ধে" অবতীর্ণ পশ্চিমা শত্রুরা; আমাদের স্বাধীনতার রূপকার শেখ মুজিবের ইমেজকে কাজে লাগিয়ে তার মূর্তি রচনা করেছে, আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি মানুষের ভালবাসা ও আবেগকে কাজে লাগিয়ে তাদের ভাষ্কর্যের নামে তাদের স্থানে স্থানে মূর্তি স্থাপন করেছে, দেশের ঐতিহ্যবাহী ব্যক্তিত্বদের মূর্তি নির্মাণ করে করে তাতে মানুষকে ফুল চড়ানো শিখিয়েছে। এরা কারা? কেন তাদের এত আগ্রহ এসকল মৃত মানুষদের জন্য মূর্তি বানানোতে এবং সেসবে দিন গুণে গুণে ফুল চাড়নোতে, বেদীতে বলির মত করে নানা কার্যক্রম উদযাপনে? কি তাদের স্বার্থ এখানে?&lt;br /&gt;এসব ভাবার অবসর যেন আমাদের জনগণের নেই, ফুরিয়ে গেছে সময়। বরং আমরা যেন খুঁজে বেড়াচ্ছি পৃথিবীর কোথায় কোন অপসংস্কৃতির জন্ম হচ্ছে আর আমরাও তাকে আমদানী করবো। কেন আমাদের এই তাড়া? কে শিখাচ্ছে আমাদেরকে এই অধঃপতন? একবারো কি ভাবনায় জাগলো না যে, মূর্তিতে ফুল দেয়া কোন পর্যায়ের কাজ, কাদের সংস্কৃতি? কোথায় অজান্তে বিক্রিত হয়ে যাচ্ছি আমরা!&lt;br /&gt;মূলতঃ পৃথিবীতে প্রথম মূর্তিপূজার প্রচলনই ঘটেছিল কিছু সম্মানিত ও আল্লাহ্‌ওয়ালা মানুষকে স্মরণীয় করে রাখার প্রয়াস থেকে। নবী নূহ আলাইহিস্ সালামের জাতিই হচ্ছে প্রথম জাতি যারা সর্বপ্রথম মূর্তিপূজা শুরু করেছে। আয়াদ্দ, সূয়া, ইয়াউস, ইয়াউক ও নসর ছিল তাদের মধ্যকার সম্মানিত ও আল্লাহ্‌ওয়ালা কিছু মানুষ। এদেরকে স্মরণীয় করে রাখতে তারা এঁদের মূর্তি তৈরী করে রেখেছিল। এসব মূর্তির পাশে তারা জমায়েত হত এবং মনে করত এদের ভালোমানুষী তাদেরকে আল্লাহ্‌র কথা স্মরণ করিয়ে দেবে। কিন্তু কালক্রমে তাদের এই জমায়েত হওয়া রূপান্তরিত হয় ভক্তি-শ্রদ্ধায়, আর ভক্তি-শ্রদ্ধাগুলো রূপ নেয় ইবাদাতে এবং পর্যায়ক্রমে এদেরকেই তারা তাদের উপাস্য বানিয়ে নেয়। এই মূর্তিগুলোর কথা কুরআনে সূরা নূহের ২৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে।&lt;br /&gt;এছাড়া বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে, আমাদের প্রতিবেশী হিন্দুরা যখন পূজা করে তখন কি করে? তারা তাদের দেবতাগুলোর মূর্তি তৈরী করে তা বিশেষ বিশেষ স্থানে স্থাপন করে, সেগুলোর সামনে একটি বেদী থাকে, সেখানে পূজার সময় তারা ফুল ছিটিয়ে দেয়, মূর্তির গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেয়। তারপর তারা তাদের ধর্মগ্রন্থের মন্ত্র কিংবা কবিতা বা স্তুতিবাক্যাদি গেয়ে বা পাঠ করে তাদের পদ্ধতিতে হয়ত সিজদা করে, কিংবা মৌনব্রত পালন করে কিংবা অন্য কোন কায়দায় তাদের ভক্তি-শ্রদ্ধা-ভালবাসা প্রকাশ করে তথা ইবাদাত করে তা বাস্তবায়ন করে থাকে।&lt;br /&gt;এবার দেখুন মূর্তির সামনে কি করে থাকে বাংলাদেশের মুসলমানগণ? এ পর্যন্ত যেসব মুসলমানের মূর্তি বানানো হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের জন্ম কিংবা মৃত্যু দিবসে অথবা মূর্তির কাছাকাছি যেসব ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে সেসবে কি করা হয় বিভিন্ন নির্ধারিত দিবসে? সেখানে মধ্যরাতের পর থেকে কিংবা অন্য কোন সময় থেকে নিয়ে বেদী ধুয়ে মুছে, রঙ করে সেই বেদীতে ফুল ছিটানো হয়, মোমবাতি জ্বালানো হয়, মূর্তি কিংবা ভাস্কর্যের গলায় ফুলের মালা পরানো হয়। তারপর তাদের স্মরণে অথবা প্রশংসায় সংগীত পরিবেশিত হয়, কখনো শিল্পীর দ্বারা কখনো সকলেই খালি গলায়, কখনোবা হাতে হাত রেখে মৌন নিরবতায় স্মরণে এবং অবশেষে আরো নানা কায়দায় সমাপ্ত হয় এই বিনয় প্রদশর্ন, ভক্তি প্রদর্শন, শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও ভালবাসা প্রদশর্ন। পরন্তু দিনে দিনে আরো অভিনব কায়দা উদ্ভাবনের গবেষণা চলছে রীতিমত। একদিন হয়ত তা সিজদায় গিয়ে ঠেকতে পারে (নাউযুবিল্লাহ্)!&lt;br /&gt;বলে রাখা জরুরী যে, আরবী ইবাদাত শব্দটি ইসলামী পরিভাষায় যে অর্থ প্রকাশ করে থাকে তা মূলতঃ এ তিনটি বিষয়ের সমাহার- পরিপূর্ণ বিনয়, পরিপূর্ণ ভক্তি-শ্রদ্ধা ও পরিপূর্ণ ভালবাসা।&lt;br /&gt;কি পার্থক্য থাকলো তাহলে হিন্দুধর্মের মূর্তিপূজার সাথে এসব ভাস্কর্য আর মূর্তির প্রতি সম্মাননা প্রদর্শনের মধ্যে? এর বিচারের ভার বিজ্ঞ পাঠকের উপরই ন্যস্ত করলাম।&lt;br /&gt;এতদূর বিস্তারনের পর যে আকুল আবেদনে ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে এ লেখকের মত মুসলিম বাংলার আরো বহু ব্যথিত অন্তর থেকে তাহলো, একটি বারের জন্যেও কি ভেবে দেখবেন না যে, আপনি একজন মুসলমান হয়ে কি করে এসব করে যাচ্ছেন? আপনি আপনার অন্তরে যে বিশ্বাস লালন করছেন, যে বিশ্বাসের আলোকে আপনি আপনার পরিচয় পেশ করছেন মানুষের কাছে যে-আপনি একজন মুসলমান-আপনার সে বিশ্বাসের সাথে এহেন গর্হিত মূর্তি নির্মাণ ও সেসবের পূজার মধ্যে সংঘর্ষ কতটা প্রবল! কখন সময় হবে আপনাদের এসব ভাবনার? কখন আপনাদের ঘুম ভাঙ্গবে? কখন এই সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মোহময় জাল ছিঁড়বে? এসবের জন্য কারা মরিয়া হয়ে উঠছে; সে কথা কি কখনো ভেবেছেন? যারা এদেশে নাস্তিক মুরতাদ হিসেবে স্বঘোষিত, তাদেরকেই সবচেয়ে বেশী তৎপর দেখবেন এসব মূর্তির হেফাযতে এবং সেসবের পূজার ক্ষেত্রে নানা কৌশল বের করে করে শেষ পর্যন্ত হিন্দুধর্মের মূর্তিপূজা পর্যন্ত পৌঁছানোতে।&lt;br /&gt;বলতে পারেন, হিন্দুধর্মকে কেন টানছেন? এর জবাবে আবারো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, পৃথিবী ব্যাপী এখন চলছে সংস্কৃতির লড়াই। এবং তা চলছে ইসলামী সংস্কৃতির সাথে অন্য সকল সম্মিলিত সংস্কৃতির। কুফরী শক্তি পরস্পর এ বিষয়ে একমত যে, ইসলাম ও মুসলমানদের নিষানা দুনিয়া থেকে মুছে ফেলতে হবে। আর সে পন্থা পূর্বেকার মত হত্যা করে নয়; বরং তা হবে পরিবর্তনের মাধ্যমে -এটাই তাদের পরিকল্পনা। তাই আপনি যতদিন নামায পড়বেন, ততদিন আপনার ম্যধে ইসলামী চেতনা অবশিষ্ট থাকবে, যখনি নামায ত্যাগ করে সাংস্কৃতিক উন্নয়নের নামে মূর্তিপূজায় লিপ্ত হবেন, তখন আর আপনার মধ্যে ইসলামী চেতনা বেঁচে থাকবে না। তাই আপনার ভেতরকার ইসলামী চেতনাকে ধ্বংস করে দিতে পারলে আর আপনার দেহটিকে ধ্বংস করে শুধু হন্তারক সাজার কি প্রয়োজন? সংস্কৃতির এ যুদ্ধে একজন মুসলমানের সত্যিকারের মুসলিম হিসেবে বেঁচে থাকা নির্ভর করছে তার ইসলামী চেতনাবোধ বেঁচে থাকার উপর। সেটিকে দুর্বল করতে পারলে কিংবা সেটির মৃত্যু ঘটাতে পারলেই আপনাকে শত্রুরা মৃতের তালিকায় উঠিয়ে দিতে পারবেন নিশ্চিন্তে। কিন্তু তা কি এতই সহজ? না। কারণ, সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে শত্রুরা শিখেছে যে, ইসলামের বীজ মুসলমানদের অন্তরের এতটাই গভীরে প্রোত্থিত থাকে যে, মৃত্যুও মুসলমানদের অন্তর থেকে তা উপড়ে ফেলতে পারে না!&lt;br /&gt;সুতরাং আপনাকে আর হত্যা করে নয়; বরং আপনার ইসলামী চেতনাবোধকে হত্যা করেই আপনাকে পরাজিত করা এ যুদ্ধের রণকৌশল। তাই বাংলাদেশের মত একটি দেশের পটভূমিতে সংস্কৃতির বিপর্যয় ঘটানো যতটা সম্ভব তার প্রতিবেশীদের থেকে, প্রতিবেশীদের দ্বারা; ঠিক ততটাই অসম্ভব ও সুদূর পশ্চিম থেকে আটলান্টিক-প্রশান্ত পাড়ি দিয়ে নিয়ে আসা সংস্কৃতি থেকে, সংস্কৃতি দ্বারা। এ কৌশলের আলামত খুঁজলে দেখবেন যে, নাস্তিক-মুরতাদগুলো সর্বদা ধর্মের বিরোধিতা করে কিন্তু এ অঞ্চলে ইসলামের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মের ওকালতি করে। ইসলামের মোকাবেলায় তারা হিন্দু ধর্মকে অব্যর্থ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। আমাদের হিন্দু ধর্মের প্রতিবেশীদেরও বুঝা উচিত এ বিষয়টি। পরন্তু পাশ্চাত্য সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার যত ধরনের কায়দা কানুন রয়েছে, সেগুলো তো আমাদের 'মহান সেবক সংস্থাগুলো' (!) (যারা স্ত্রীর ঋণের দায়ে স্বামীকে হত্যা করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে আমাদের সেবা করে যাচ্ছেন; তারা) খুবই নিষ্ঠার সাথে আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।&lt;br /&gt;তাই সর্বশেষে বলতে চাইছি যে, বর্তমানে বিমানবন্দর এলাকা থেকে লালন শাহর মূর্তি সরানোটা যদি চাপের মুখে হয়ে থাকে, তবে চাপ সৃষ্টি করা সেসব মুসলমানদেরকে আমাদের সশ্রদ্ধ সালাম জানানো উচিত এবং জানানো উচিত অভিনন্দন। আর যদি সরকার হাজ্জীদের বিষয়টি লক্ষ্য করে সরিয়ে থাকেন তবে সরকারকে এহেন মহতি উদ্যোগের জন্য এদেশের প্রায় তের কোটি মুসলমানের পক্ষ থেকে অভিনন্দন। এবং এ মুহূর্তে তৌহিদী জনতার জোর দাবী এই যে, বাংলাদেশের মত একটি বৃহৎ মুসলিম দেশে পর্যায়ক্রমে যে হারে মূর্তি নির্মাণ ও স্মরণ-সম্মানের নামে সেসবের পূজা করা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সরকারে উচিত আইন করে তার প্রতিরোধ করা। অন্যথা তৌহিদী জনতা যদি লালনের মূর্তির মত অন্যান্য মূর্তিগুলোর গলায় দড়ি দিয়ে টেনে হিঁচড়ে বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করে, তবে সেজন্য সরকারই দায়ী থাকবে; এ দেশের তৌহিদী জনতা নয়।&lt;br /&gt;ইসলামের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বলেছিলেন: "আমি পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছি মূর্তি ধ্বংসের জন্য।" তিনি যখন মদীনায় হিজরতের পরিকল্পনা করছেন, তখন তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে পাঠিয়ে মদীনার সকল উঁচু কবরগুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছেন; যা কবর পূজার অন্তর্ভুক্ত। সর্বোপরি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন কা'বা শরীফে প্রবেশ করে তাঁর হাতের লাঠির আঘাতে কাবাভ্যন্তরের ৩৬০ মূর্তিকে একটি একটি করে ভেঙ্গে ফেলছিলেন আর বলছিলেন যে, جَاء الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقاً "সত্য সমাগত এবং মিথ্যা বিতাড়িত, নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত হবারই ছিল।" [সূরা আল-ইসরা: ৮১] সেদিন থেকে পবিত্র কা'বা শরীফ থেকে চিরতরে মূর্তি বিতাড়িত হয়েছিল।&lt;br /&gt;প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মাত হিসেবে বাংলাদেশের শাসক গোষ্ঠী এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আহ্বান করছি- আপনারা পৃথিবীর এক দশমাংশ মুসলমানের অভিবাস এই বাংলাদেশ থেকে মূর্তি স্থাপন ও মূর্তি পূজার বিলুপ্তি ঘটান। এটা আপনাদের ঈমানী দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। অন্যথা ঈমানের দাবী আল্লাহর নিকট ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়ে যেতে পারে। আল্লাহ্ এদেশের মুসলমানদের হেফাযত করুন মূর্তিপূজার সংস্কৃতির কবল থেকে।&lt;br /&gt;বিশেষ দ্রষ্টব্য: হিন্দু ধর্মের লোকেরা তাদের ধর্মমত মূর্তিপূজা করবে, তাদের মন্দিরে মূর্তি স্থাপন করবে, তাতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। এ প্রবন্ধে মুসলিম প্রধান দেশে সামাজিক ভাবে মূর্তি স্থাপন ও মূর্তিপূজা প্রসারের যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, তার প্রতিবাদ করা হয়েছে।&lt;br /&gt;-১৬ অক্টোবর ২০০৮&lt;br /&gt;মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/32545972-2086755217565579180?l=shomoinirman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shomoinirman.blogspot.com/feeds/2086755217565579180/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=32545972&amp;postID=2086755217565579180' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/32545972/posts/default/2086755217565579180'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/32545972/posts/default/2086755217565579180'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shomoinirman.blogspot.com/2008/10/blog-post_30.html' title='@ লালনের মূর্তির মত সকল মূর্তি অপসারিত হোক! সময়ের দাবী!!'/><author><name>Fazle Elahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-32545972.post-1167345614130425993</id><published>2008-10-10T02:48:00.000+06:00</published><updated>2008-10-10T02:52:12.970+06:00</updated><title type='text'>@ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাসে বাংলাদেশের সুনাম ও দালাল চক্রের পাঁয়তারা</title><content type='html'>'সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি' বলতে আমরা কি বুঝি? এ প্রশ্নের সহজ উত্তর হতে পারে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সদ্ভাব বজায় রেখে বসবাস করা। এখন এই সদ্ভাবের বিস্তৃতি জীবনের সকল দিক জুড়ে। এর মধ্যে একাধারে যেমন থাকছে পারস্পরিক মুখদেখাদেখি তেমনি থাকছে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণও। পৃথিবীর দেশে দেশে শোনা যায় এই সম্প্রীতির কথা, কোথাও এ সম্প্রীতি পূর্ণমাত্রায় বহাল আবার কোথাও আংশিক, কোথাও লংঘিত হয়ে অত্যাচার নিপীড়ন হচ্ছে। সম্প্রীতির সুরক্ষা এবং মধ্যম পন্থা থেকে নিয়ে লংঘনের নানা চিত্র আমরা আমাদের নিজ দেশ এবং পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোতে অহরহ দেখতে পাই। এর জন্য খুব বেশী দূরে তাকাতে হয় না।তিন দিকে ঘেরা এমন একটি দেশ বাংলাদেশকে ঘিরে আছে যে দেশে প্রতি বছর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় বহু মানুষ প্রাণ হারায়। বহু নৃশংস ঘটনার সাক্ষী বিগত কয়েক দশকের ভারত। যেখানে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় শুধুমাত্র তার ধর্ম বিশ্বাসের কারণে। পৃথিবীর পথে আগমনকারী গর্ভের সন্তানও যেখানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার হাত থেকে বাঁচতে পারেনি। তেমন একটি দেশকে ঘিরে আছে যে বাংলাদেশ; পৃথিবীর বুকে সমকালীন বহু বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুরক্ষায় যার সুনাম, সে আমার স্বদেশ বাংলাদেশ। স্বদেশী আর বিদেশী শত্রুদের জন্য যা এক মহা যন্ত্রণা! কেন বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধে না? কেন বাংলাদেশ এই প্রশ্নে প্রশান্ত! এ এক আশ্চর্য বিষয় তাদের নিকট।তারা তাদের এহেন যন্ত্রণার অবসান কল্পে সময় সময় কলম ধরে, উপশমের প্রচেষ্টায় প্রচুর "ধারণা" এবং টানাহেঁচড়া উদাহরণ পেশ করে প্রমাণ করার ব্যর্থ প্রয়াস চালায় যে, "বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের বিষ ঢুকেছে অনেক গভীরে...."। যদিও বিজ্ঞজনের মন্তব্য যে, তারা এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের বিষ ঢোকাতে সচেষ্ট এসবের মাধ্যমে। এদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়, অশান্ত হয় অত্যাচারের প্রতিরোধে, নিপীড়নের প্রতিবাদে আর কখনো বা প্রচুর অর্থের বিনিময়ে বিক্রিত হয়ে। তারা সাধারণত ব্যঙ্গরচনায় সিদ্ধ হস্ত হয়। অবশ্য একটাও অনেকগুলো দুর্বল কৌশলের মধ্যে একটা দুর্বলতম কৌশল তাদের। যেমনটি কেউ আপনার গোপন তথ্য জেনে খোঁচা দিল আর আপনি নতুন কিছু শুনলেন মনে করে ব্যঙ্গোক্তি করে সেটাকে হালকা করার প্রয়াস চালালেন; কিন্তু না, সত্য এত সহজেই লুকিয়ে রাখা যায় না। অথবা শতটি মিথ্যা দিয়েও সত্যকে ঢেকে রাখা যায় না।প্রবাসী এক বিহারের (ভারতীয়) বাসিন্দা সেদিন খাবারে টেবিলে তোলা ভারতীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রসঙ্গের আলোচনাকে শেষ পর্যন্ত শ্রোতাদের দীর্ঘশ্বাস আর তার না খেয়ে উঠে যাওয়ায় পরিণত করলো! তার ভাষ্যানুযায়ী, ভারতে তার এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ভয়ে তারা জোরালো ভাষায় কথা বলতে পারে না, নিজেদের অধিকারে কথা তুলে ধরতে পারে না। তাদেরকে ঘৃণ্য-অস্পৃশ্য মনে করা হয়, তাদের অনুষ্ঠানাদিতে সবকিছু সীমাবদ্ধকরণ করা হয়, শিক্ষায় তাদের সন্তানদেরকে বিবিধ সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়, কখনো কখনো লুটতরাজ চলে মুসলিম বাড়ীগুলোতে। চাকুরীর প্রত্যাশায় বহু মুসলিম যুবক-যুবতী হিন্দু নাম ধারন করতে বাধ্য হয়। কোন হিন্দু মেয়ে মুসলিম যুবককে বিয়ে করলে তার প্রতিশোধ নেয়া হয় কঠোরভাবে আর কোন মুসলিম মেয়ে হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করলে তাকে হিন্দু বানিয়ে দিব্যি প্রটেকশন দিয়ে যাওয়া হয়। সর্বোপরি মুসলিম সম্প্রদায়ের উঠতি যুবাদের মধ্য থেকে যদি কারুর ব্যাপারে তাদের এই ধারনা হয় যে, এর দ্বারা তাদের যে যুলুম অত্যাচার চলছে তাতে ব্যাঘাত ঘটবে, তবে তাকে পুলিশেরা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তুলে নিয়ে যাবে এবং নির্জন কোন নদীর কিনারে নিয়ে গুলি করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়; যার ব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমসহ সকল মাধ্যমই অন্ধ থাকে। এভাবেই বর্ণিত হলো কথায় কথায় তোলা একজন ভারতীয় পঞ্চাশোর্ধ নাগরিকের নিজেদের অবস্থার বর্ণনা!অথচ সে তুলনায় দৃষ্টি দিন বাংলাদেশের দিকে, পৃথিবীর যে কেউ, যে কোন অবস্থান থেকে, আমাদের কোন আপত্তি নেই। বের করুন ভারতের মত দু'একটি উদাহরণ? এদেশে একই গ্রামে হিন্দু-মুসলিম এক সাথে বসত করে আসছে, একে অপরের বিপদে আপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। হাটে-বাজারে, ব্যবসা-বাণিজ্যে, লেন-দেনে, সেবা-চিকিৎসায়, কোথায় খুঁজে পাওয়া যাবে ব্যবধান আমার সোনার বাংলাদেশে? ভারতে যখন বাবরী মসজিদ ভাঙ্গা হয়, উত্তেজিত যুবকেরা বাংলাদেশেও জোশের বশে তেমন কিছু করতে হয়ত চেয়েছিল, কিন্তু এদেশের ঐতিহ্য রক্ষায় তৎপর মুসলিম নেতৃবৃন্দ, অভিভাবকগণ তা হতে দেয়নি। ভারতের মত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের এত জঘন্য ইতিহাসে পৃথিবীর ইতিহাসে নগন্য মিলবে। এই তো সেদিনের গুজরাটের দাঙ্গা পৃথিবীকে কাঁদিয়েছিল, আজো কাঁদাচ্ছে। সেসবের তুলনা তো বহু দূরের, বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নে, চাকুরীর ক্ষেত্রে কিংবা রাষ্ট্রীয় দপ্তরে ও রাজনৈতিক ময়দানে কোন হিন্দু এমন দাবী উত্থাপন করেছে বলে আজো কেউ শোনেনি যে, তাকে তার নাম পাল্টে মুসলিম নাম ধারন করতে হয়েছে শিক্ষার জন্য, চাকুরীর জন্য, শান্তিতে বসবাসের জন্য। এমন উদাহরণ কেবলমাত্র বাংলাদেশই দেখিয়েছে এতদ অঞ্চলে। ভারত সে তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার জন্য কলংক!কথায় কথায় "সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ব্যবসায়ী"রা একাত্তরে ঝাঁপ দেন। অবশ্য সে যুদ্ধাবস্থা ছাড়া তাদের কাছে আর কোন মজবুত তথ্যও নেই যে এ ব্যবসা চালিয়ে যাবে। একাত্তর প্রসঙ্গে বলতে গেলে বলতে হয় যে, যুদ্ধ যুদ্ধই। সেখানে কেবলি ধ্বংস আর মৃত্যু। কতটুকু লংঘিত হয়ে যুদ্ধ আইন, সে বিচার বিবেচনা হয় পরিস্থিতি শান্ত হবারও বহু বহু পরে। তাই যুদ্ধাবস্থায় যাকিছু অঘটন ঘটেছে তা যুদ্ধের সাথেই সম্পৃক্ত। সে যুদ্ধে যদি প্রাধান্য পায় ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা কোনভাবে জড়িয়ে পড়ে ধর্মীয় চেতনাবোধ, তবে তো অবশ্যই ধর্মভিত্তিক ধ্বংসের শিকার হয়ে থাকে মানুষ। তাই যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী প্রমাণ করার দুর্বল প্রচেষ্টা সন্দেহাতীতভাবে ষড়যন্ত্র। যদি যুদ্ধাবস্থার মত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী পরিবেশ তৎপরবর্তী সময়েও বহাল থাকতো, তবে বাংলাদেশে হিন্দুদের টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যেত না ২০০৮ সালে এসে। কিন্তু অবস্থা কি তা আর বর্ণনার অপেক্ষা রাখে না; সবকিছুই দৃষ্টির সীমানায় প্রকাশ্য।দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় যা প্রতিটি সমাজেই বর্তমান। তা হলো, সমাজের দুষ্ট লোকগুলো। তারা যেমনি করে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্বে ছিল, যুদ্ধের সময়ও ছিল, তেমনি করে যুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে নিয়ে আজো আছে এবং থাকবে। তারা আগেও যেমন লুটতরাজ, সন্ত্রাস করতো, যুদ্ধের সময়কে আরো সুবর্ণ সুযোগ মনে করে বেশী মাত্রায় করেছে এবং যুদ্ধের পর থেকে আজো করে যাচ্ছে। আর এ শ্রেণীর অত্যাচার নিপীড়নের কাছে মুসলিম হিন্দু খৃষ্টানের কোন বাছবিচার নেই। এরা অপরাধী, অপরাধের ক্ষেত্র পেলেই তাতে লিপ্ত হচ্ছে। সুতরাং এদের কৃতকর্ম থেকে হিন্দু নাগরিকেরা যে পরিমাণ অত্যাচারিত হয়েছে, সে উদাহরণ দিয়ে যদি প্রমাণ করার অপচেষ্টা করা হয় যে, বাংলাদেশ সাম্প্রাদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী, তবে তা হবে রীতিমত জুচ্চোরী।এবার আসা যাক- কেন বাংলাদেশ এই সুনামের অধিকারী? তার আগে দেখতে হবে কাদের থেকে এই নিরাপত্তা পাচ্ছে কিংবা কারা এই সুনামের ভাগীদার হচ্ছে? এ জবাবে বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৮৫% এর নামটিই আসতে পারে কেবলমাত্র, অর্থাৎ মুসলিম। তাহলে এবার দেখা যাক কি আছে এই সম্প্রদায়ের কিংবা এই ধর্মের মধ্যে যার কারণে মুসলমানগণ অন্য ধর্মের মানুষদের প্রতি এতটাই সহনশীল যে, ইতিহাস সৃষ্টি করে ফেললো? ইতিহাস সাক্ষী, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এক বিচারের জন্য মুসলিম আসলো, বিবাদটি ছিল ইয়াহূদীর সাথে, বিচারে আল্লাহর রাসূল রায় দিলেন ইয়াহূদীর পক্ষে, সে রায় সে মুসলিমের পছন্দ হলো না বলে সে গেল উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর কাছে। উমার আল্লাহর রাসূলের ফয়সালার পর তার নিকট ফয়সালার জন্য যাওয়াতে সে মুসলিমের শিরোচ্ছেদ করে ফেললো এই বলে যে, যে ব্যক্তি স্বয়ং আল্লাহর নবীর ফয়সালার পর উমারের কাছে আসে বিকল্প ফয়সালার জন্য, তার ফয়সালা করতে হয় এভাবেই!ইসলামের খলীফা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর কোন জিনিস চুরির অপরাধে ইয়াহূদীর বিপক্ষে খলীফা সাক্ষী আনলেন নিজের চাকরকে, হতভম্ব পৃথিবী সেদিন দেখেছিল, খলীফার শাসন ব্যবস্থার অধীন চাকুরীরত কাযী স্বয়ং খলীফার আনীত সাক্ষীকে প্রত্যাখ্যান করেছেন নিজের একান্ত গোলাম বলে, যার সাক্ষীকে বাদীর জন্য যথার্থ বিবেচনা করেননি এবং রায় ইয়াহূদীর পক্ষে গেল। খলীফা বিচার মেনে নিলেন। এভাবেই মুসলমানদের জীবন ব্যবস্থা ও সোনালী ইতিহাস থেকে এই সম্প্রদায় শিক্ষা নিয়েছে কিভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুরক্ষা করতে হয়।সর্বেশেষে এই আশার কথা ব্যক্ত করে শেষ করছি যে, এত সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র, মিথ্যা প্রচারণা, অর্থ ব্যয় ইত্যাদির পরও এদেশের মানুষের ধৈর্য্য ও সহ্যের কাছে হার মেনেছে দালাল গোষ্ঠী। আল্লাহ্ বাংলাদেশকে রক্ষা করুন সাম্প্রাদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামা থেকে এবং এই সুনাম আরো বিস্তৃত হয়ে চলে যাক কেয়ামত পর্যন্ত -এই প্রার্থনা হোক প্রতিজন বাংলাদেশী মুসলিমের।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গুজরাটের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার একটা ভয়ংকর ছবি দিয়েছিলাম, আসেনি বা আসতে দেয়া হয়নি। ভালোই হয়েছে, মনটা খুব খারাপ হলো ছবিটি দেখে। এখন তুলে দিয়েছি, শুধু লিংকটা রাখলাম, যারা দেখতে চান দেখে আসতে পারেন। &lt;a href="http://bp0.blogger.com/_7nymn3_QlHU/RxSCeXsBrYI/AAAAAAAAADk/Nfp5hrdanNg/s1600-h/charred"&gt;ছবি কৃতজ্ঞতা ও ছবিটি দেখতে ক্লিক করুন।&lt;/a&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/32545972-1167345614130425993?l=shomoinirman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shomoinirman.blogspot.com/feeds/1167345614130425993/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=32545972&amp;postID=1167345614130425993' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/32545972/posts/default/1167345614130425993'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/32545972/posts/default/1167345614130425993'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shomoinirman.blogspot.com/2008/10/blog-post.html' title='@ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাসে বাংলাদেশের সুনাম ও দালাল চক্রের পাঁয়তারা'/><author><name>Fazle Elahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-32545972.post-3571475408289947184</id><published>2007-10-31T17:09:00.000+06:00</published><updated>2007-10-31T17:22:07.027+06:00</updated><title type='text'>"জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ"-এর বিরোধিতার নেপথ্যে (এক)</title><content type='html'>&lt;p class="MsoNormal" style="MARGIN: 0cm 0cm 0pt; DIRECTION: ltr; unicode-bidi: embed; TEXT-ALIGN: left"&gt;&lt;span style="FONT-SIZE: 14pt; FONT-FAMILY: SolaimanLipi; mso-bidi-language: #0845"&gt;আজ আমি যে কারণে কলম ধরলাম, এটি পৃথিবীর চিরন্তন একটি কারণ। শত সহস্র বছর পূর্বেও পৃথিবীতে সত্যের পক্ষ নেয়ার জন্য যেসব মাধ্যম তৎকালে বর্তমান ছিল, সে যুগের সত্যের সেনানীরা সে পন্থাই অবলম্বন করে বুক টান করে দাঁড়িয়েছেন সত্যের পক্ষে। এ যুগেও তা বর্তমান, কেবলমাত্র নতুন পোষাকে, যুগের নতুন রূপে রূপায়িত মাত্র। এমনকি এ প্রজন্মের পরেও আরো বহু বহু যুগ পেরিয়ে যাবে হয়ত, কিন্তু মহাসত্যের পক্ষ-বিপক্ষ অবলম্বনের ধারাবাহিকতার শেষ হবে না; হবে না এই বিশ্ব ব্যবস্থার পূর্ব ধ্বংস পর্যন্ত। সূর্য যতদিন পৃথিবীতে আলো দেবে, যতদিন সৌরজগতে, ছায়া পথে আলোকের অস্তিত্ব পাওয়া যাবে, ততদিনই অন্ধকার চাইবে তাকে গ্রাস করে নিতে, তাকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে। আলোর রশ্মি দিশারী হবে তাদের জন্য যারা চায় আলোকিত জীবন, জ্যোতির্ময় মরণ এবং চির ঔজ্জ্বল্যে ভরপুর অনন্ত জান্নাত। অন্যদিকে অন্ধকার হবে সেসব কীটের জন্য দুনিয়ার নর্দমা, নিকৃষ্ট মৃত্যুর কারণ এবং চির অন্ধকার কবর থেকে নিয়ে অনন্ত জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তির দিকে পথ প্রদর্শনকারী।&lt;?xml:namespace prefix = o ns = "urn:schemas-microsoft-com:office:office" /&gt;&lt;o:p&gt;&lt;/o:p&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p class="MsoNormal" style="MARGIN: 0cm 0cm 0pt; DIRECTION: ltr; unicode-bidi: embed; TEXT-ALIGN: left"&gt;&lt;span style="FONT-SIZE: 14pt; FONT-FAMILY: SolaimanLipi; mso-bidi-language: #0845"&gt;&lt;o:p&gt; &lt;/o:p&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p class="MsoNormal" style="MARGIN: 0cm 0cm 0pt; DIRECTION: ltr; unicode-bidi: embed; TEXT-ALIGN: left"&gt;&lt;span style="FONT-SIZE: 14pt; FONT-FAMILY: SolaimanLipi; mso-bidi-language: #0845"&gt;ইসলাম পৃথিবীর বুকে পরিপূর্ণ রূপে আগমনের প্রায় চৌদ্দশত বছর পরে এই প্রজন্মের আগমন। প্রারম্ভিকের সোনালী সময়টা পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তার বিজয়ী ঔজ্জ্বল্যতা হারিয়ে ফেললেও ইসলাম তার নিজস্ব অবস্থানে, নিজস্ব মূলনীতিতে এবং আলোক বিতরণে রয়েছে অপরিবর্তনীয় এবং কেয়ামত পর্যন্ত থাকবেও তাই। যুগের শেয়ালগুলোর দ্বারা মিষ্টবাগানের যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে প্রতি যুগে, তা পূরণ করার জন্য সর্ব যুগেই দৃঢ়পদ ছিলেন মুজাদ্দিদ-মুজাহিদগণ। সে ধারা বেয়েই ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন বিশ্বব্যাপী বিধ্বংসী প্রথম মহাযুদ্ধ ও তার পরপরই দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের দামামায় উত্তপ্ত সারা পৃথিবী, উপমহাদেশেও যার ধ্বংসলীলা হানা দিচ্ছিল, তখনি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে, যেন শান্তির বীজ বপন ও চাষাবাদের মাধ্যমে ইসলামের সত্যিকার ধারার অনুসরণ ও বাস্তবায়নের আন্দোলন ও কর্মসূচী নিয়ে শুরু হলো "জামায়াতে ইসলামী" নামক সংগঠন। যার একমাত্র উদ্দেশ্য "আল্লাহর যমীনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টি অর্জন"। এই সংগঠন তার যাবতীয় কর্মকাণ্ডে ইসলামের একটা অর্থ 'শান্তি'র সর্বোচ্চ পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছিল এবং 'আল্লাহ্, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ইসলামের কর্তৃত্বশীলদের আনুগত্যের প্রশ্নে' ইসলামের আরেকটি অর্থ 'আত্মসমর্পণ'-এর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মুসলমানদের নিকট গ্রহণযোগ্য সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছে আল্লাহর মেহেরবানীতে।&lt;o:p&gt;&lt;/o:p&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p class="MsoNormal" style="MARGIN: 0cm 0cm 0pt; DIRECTION: ltr; unicode-bidi: embed; TEXT-ALIGN: left"&gt;&lt;span style="FONT-SIZE: 14pt; FONT-FAMILY: SolaimanLipi; mso-bidi-language: #0845"&gt;&lt;o:p&gt; &lt;/o:p&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p class="MsoNormal" style="MARGIN: 0cm 0cm 0pt; DIRECTION: ltr; unicode-bidi: embed; TEXT-ALIGN: left"&gt;&lt;span style="FONT-SIZE: 14pt; FONT-FAMILY: SolaimanLipi; mso-bidi-language: #0845"&gt;'জামায়াতে ইসলামী' তার প্রতিষ্ঠালগ্নে তার কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল নিখিল ভারতে, তারপর বিভাজিত হওয়ার পর এই সংগঠনও ভাগ হয় যা 'জামায়াতে ইসলামী হিন্দ' ও 'জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান' হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। অবশেষে মুসলমানদের চিরশত্রু&lt;span style="mso-spacerun: yes"&gt;  &lt;/span&gt;ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকারের তার প্রতিপক্ষ মুসলিম দেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত কুটিল ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়ে তৎকালীন পাকিস্তানের অবিবেচক কিংবা ভারত সরকারের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নকারী গাদ্দার সরকার কিংবা ইসলামী ভ্রাতৃত্ব সম্পর্কে অজ্ঞ পাকিস্তান সরকারের অত্যাচার ও নৃশংস দমন নীতির আওতায় এনে যু্দ্ধের মুখে ঠেলে দেয়া হয় এই মুসলিম দেশটির একাংশকে। ভারতের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের সাথে সেদিন পূর্ব পাকিস্তানের যারা যারা জড়িত ছিল, তারা চায়নি কোনরূপ সমোঝোতা হোক। কিন্তু বামপন্থী দলগুলোসহ ইসলামপন্থীরা এই ষড়যন্ত্র টের পায় এবং বিশ্বের বুক থেকে একটা মুসলিম শক্তি দ্বিখণ্ডিত হোক এটা যেমন ইসলাম পন্থীরা কখনোই আশা করেনি তেমনি পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে পূর্ব পাকিস্তান ভারতের গোলামে পরিণত হোক এটাও মেনে নিতে পারেনি তৎকালীন বাম দলগুলো, তাই যুদ্ধ না করে সরকারের সাথে সমঝোতার পক্ষেই ছিলেন তারা। অতঃপর সক্রিয় থাকুক আর নিস্ক্রিয় থাকুক, অর্থের লোভে কেউ পশ্চিমা সেনাদের সহযোগিতা করুক কিংবা নিজের মত ও পথের পক্ষেই হোক; সব দোষ এসে পড়েছে পাকিস্তান বিভাজনের বিপক্ষে মতামত দানকারীদের ঘাড়ে।&lt;o:p&gt;&lt;/o:p&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p class="MsoNormal" style="MARGIN: 0cm 0cm 0pt; DIRECTION: ltr; unicode-bidi: embed; TEXT-ALIGN: left"&gt;&lt;span style="FONT-SIZE: 14pt; FONT-FAMILY: SolaimanLipi; mso-bidi-language: #0845"&gt;&lt;o:p&gt; &lt;/o:p&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p class="MsoNormal" style="MARGIN: 0cm 0cm 0pt; DIRECTION: ltr; unicode-bidi: embed; TEXT-ALIGN: left"&gt;&lt;span style="FONT-SIZE: 14pt; FONT-FAMILY: SolaimanLipi; mso-bidi-language: #0845"&gt;দীর্ঘ নয়মাস যুদ্ধ হলো, এদেশের প্রায় ত্রিশ লাখ মানুষ প্রাণ দিলেন, অগণিত অসংখ্য মা-বোন তাদের ইজ্জত হারালেন, অর্থনৈতিকভাবে প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হলো একটি দেশ আর এই ধ্বংসলীলার পেছনে যে যুদ্ধের সহযোগী তথা ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়ণকারী দেশ ভারতই আসল অপরাধী, এদেশের গণমানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের সম্পদতুল্য মনীষীরা নিহত হলেন যাদের নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়নের শিকার হয়ে; যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এত এত লুটতরাজ এমনকি দুর্ভিক্ষ দেখেও যেন এদেশের মানুষেরদের টনক নড়লো না। এমনি এক পর্দা ঝুলিয়ে দিল ভারত ও এদেশে তাদের ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়ণকারীরা সাধারণ মানুষদের দু'চোখে; যা সরাতে এবং এদেশকে ভারতের পরাধীনতার কবল থেকে বাঁচাতে অবশেষে দেশের স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে খ্যাত সেনাবাহিনীকেই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হলো; সংঘটিত হলো ১৫ ই আগষ্ট! পুরো জাতির যেন ঘুম ভাঙ্গলো। কিন্তু ততদিনে তো তারা অনেক হারালো! যা আর ফিরে পাওয়া যাবে না কোনদিন। অবশেষে শেষ রক্ষা হলো মাত্র। মূলত ভারতের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল যুদ্ধের পূর্ববর্তী সময় থেকে, তার সবচেয়ে বড় পতন ছিল ১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫। তাই তৎকালীন ভারত সরকারের কূট কৌশলের বাস্তবায়নের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ দু'ভাগ হয়ে গেলেও, অন্যদিকে তৎকালীন পাকিস্তানের (পশ্চিম পাকিস্তানের) শাসকগোষ্ঠীর তাদের নিজেদেরই একাংশের প্রতি যে অবিচার-অত্যাচার করা হয়েছিল এবং তারই সূত্র ধরে তাদের কবল থেকে মুক্ত হবার যে আন্দোলন ও লড়াই শুরু হয়েছিল; স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে এদেশ বাসীর জন্য কেবল তাই অবশিষ্ট ছিল। কিন্তু বিশ্বের দৃষ্টিতে এদেশ স্বাধীন হলেও এই শিশুদেশটি ছিল না রাহুমুক্ত। ভারত যেন মুহূর্ত গুণছিল একে 'দ্বিতীয় সিকীম' হিসেবে ঘোষণা দেয়ার জন্য। অবশেষে আল্লাহ্ হেফাযত করলেন বাংলাদেশ নামক এই ছোট্ট মুসলিম দেশকে।&lt;o:p&gt;&lt;/o:p&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p class="MsoNormal" style="MARGIN: 0cm 0cm 0pt; DIRECTION: ltr; unicode-bidi: embed; TEXT-ALIGN: left"&gt;&lt;span style="FONT-SIZE: 14pt; FONT-FAMILY: SolaimanLipi; mso-bidi-language: #0845"&gt;&lt;o:p&gt; &lt;/o:p&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p class="MsoNormal" style="MARGIN: 0cm 0cm 0pt; DIRECTION: ltr; unicode-bidi: embed; TEXT-ALIGN: left"&gt;&lt;span style="FONT-SIZE: 14pt; FONT-FAMILY: SolaimanLipi; mso-bidi-language: #0845"&gt;আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মূলত দেশটি স্বাধীন হবে না কি ভারতের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে; ইসলাম পন্থী ও বামপন্থীদের মধ্যে যারাই যুদ্ধ থেকে বিরত থেকেছে, তাদের আসল শংকা ছিল এই প্রশ্নেই। যাইহোক, দেশ তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের কুখ্যাত সরকারের অত্যাচার-নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেল। এবং মুক্তির পরপরই যারা যু্দ্ধ না করে সরকারের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে একটা মুসলিম দেশকে দ্বিখণ্ডিত করার বিপক্ষে ছিলেন, তারা এই নতুন দেশকেই মেনে নিয়েছেন, এই নতুন দেশের কল্যাণেই কাজ শুরু করেছেন। এমনকি তখনো ভারতের ষড়যন্ত্রের প্রাবল্যতা উপলব্ধি করার পরও তারা কোনভাবেই এই স্বাধীন দেশের বিরুদ্ধে কোনরূপ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হননি, আবারো তারা পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে এদেশকে জুড়ে দেয়ার কোন প্রচেষ্টা করেননি। মূলত স্বাধীনতা পরবর্তী সরকার দেশের প্রতি তাদের এই আনুগত্য ও দেশের জন্য কাজ করার যে মনোভাব প্রত্যক্ষ করেছেন; যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার পরও তাদের ক্ষমা করে দেয়ার পেছনে এটাও একটা মৌলিক কারণ।&lt;o:p&gt;&lt;/o:p&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p class="MsoNormal" style="MARGIN: 0cm 0cm 0pt; DIRECTION: ltr; unicode-bidi: embed; TEXT-ALIGN: left"&gt;&lt;span style="FONT-SIZE: 14pt; FONT-FAMILY: SolaimanLipi; mso-bidi-language: #0845"&gt;&lt;o:p&gt; &lt;/o:p&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;span style="FONT-SIZE: 14pt; FONT-FAMILY: SolaimanLipi; mso-bidi-language: #0845; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US"&gt;এই ধারাবাহিকতাতেই নতুন বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী তার সত্য পথের যাত্রা শুরু করে। যতদিন সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ছিল, ততদিন গোপনে তারপর নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার পর থেকে প্রকাশ্যে "জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ" নামে।&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/32545972-3571475408289947184?l=shomoinirman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shomoinirman.blogspot.com/feeds/3571475408289947184/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=32545972&amp;postID=3571475408289947184' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/32545972/posts/default/3571475408289947184'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/32545972/posts/default/3571475408289947184'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shomoinirman.blogspot.com/2007/10/blog-post.html' title='&quot;জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ&quot;-এর বিরোধিতার নেপথ্যে (এক)'/><author><name>Fazle Elahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-32545972.post-5461625692384811077</id><published>2007-09-30T08:41:00.000+06:00</published><updated>2007-09-30T08:42:48.968+06:00</updated><title type='text'>সীসাঢালা প্রাচীর: নির্মাণ কৌশল</title><content type='html'>বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মুসলমানদের জন্য ঐক্যের বিকল্প নেই। সে জন্যই আল্লাহ্ তা'আলা ঘোষণা করে দিয়েছেন: إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ ((মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই।)) [সূরা আল-হুজরাত: ১০] এবং এই দিকনির্দেশনাতেই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বহু হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: ((মুসলিম মুসলিমের ভাই।)), অন্যত্র বলেন: ((এক মুমিনের জন্য আরেক মুমিন ঠিক প্রাসাদের ন্যায়, যার এক অংশ অপর অংশের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এই বলে তিনি এক হাতের আঙ্গুল অন্য হাতের আঙ্গুলের মধ্যে ঢুকিয়ে দেখান।)), তিনি আরো বলেন: ((ভালবাসা, দয়া-মায়া ও পারস্পরিক বন্ধনে দুই মুমিনের দৃষ্টান্ত হলো- এক দেহের ন্যায়, যার এক অঙ্গ রোগাক্রান্ত হলে সারা দেহে খবর হয়ে যায়।)) [ইবনে কাসীর থেকে] ।&lt;br /&gt;তদুপরি ইতিহাস রয়েছে যে, মদীনায় হিজরত করার পর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপরোক্ত সাধারণ ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের পাশাপাশি বিশেষভাবে মুসলিমদেরকে ডেকে ডেকে এক জনের সাথে আরেক জনের ভাই-ভাই সম্পর্ক ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। চিন্তা করার বিষয় যে, কি ছিল সেই প্রেক্ষাপট? চারদিক থেকে সমগ্র পৃথিবী যাদের বিরুদ্ধে, অগণন কাফের-মুশরিকদের হামলার আশংকায় জর্জরিত এমন গুটিকতক স্বদেশ ত্যাগী মুসলমান মুহাজির আর তাদেরকে আশ্রয়দানকারী আনসারগণ কি অপার বন্ধনে আবদ্ধ হতে পেরেছিলেন যে, একটি মাত্র যুদ্ধের মাধ্যমেই পৃথিবীর ইতিহাস পাল্টে দিতে পেরেছিলেন। অথচ সংখ্যায় ছিলেন নগন্য এবং সমরাস্ত্রে ছিলেন নিতান্ত সাধারণ। আমি ইসলামের ইতিহাসের প্রথম যুদ্ধ বদর যুদ্ধের কথা বলছি।&lt;br /&gt;মূলত সমগ্র বিশ্বের সাথে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা তারা অর্জন করেছিলেন দু'টো মজবুত সম্পর্কের মজবুতীর মাধ্যমে; আর সে দু'টো হলো- সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাথে সুদৃঢ় সম্পর্ক এবং মুমিনগণের নিজেদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক। উল্লেখ্য যে, আল্লাহর সাথে সম্পর্কের মাধ্যমেই তাঁর নবী, তাঁর দ্বীন ইসলাম ইত্যাদি সকল বিষয় যুক্ত হয়ে যায়।&lt;br /&gt;তারপর বিজয়ের পর বিজয় আসলো, সাহাবায়ে কেরামের মধ্যেও দ্বীনের বিভিন্ন ছোটখাট ব্যাপারে পারস্পরিক মতপার্থক্য ছিল-ফেকাহ্ শাস্ত্রের পার্থক্যগুলোর অনেকটাই সেখান থেকে-তবে অবশ্যই মূল নীতি তথা কুরআন এবং সুন্নাহর বাইরে নয়। কেননা, তারা পরিপূর্ণ রূপে মেনে চলতেন আল্লাহর এই বাণী: فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ((তোমরা তোমাদের দু'ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করবে এবং আল্লাহকে ভয় করবে যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।)) [সূরা আল-হুজরাত: ১০]।&lt;br /&gt;অতএব, বর্তমান বিশ্বে মুসলমানদের বিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিয়ে ইসলাম বিরোধী অপশক্তি আল্লাহর দ্বীন ও তাঁর বান্দাদের উপর পর্যায়ক্রমিকভাবে যে আঘাত হানছে, আমরা যদি তার মোকাবেলা করতে চাই এবং সে জন্য একত্রিত হওয়ার প্রয়োজন বোধ করি, তাহলে উপররোদ্ধৃত আয়াত ও হাদীসগুলো সহ এ সম্পর্কিত যাবতীয় দিকনির্দেশনাগুলো অন্তরের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে অনুধাবন করা আমাদের জন্য বাধ্যতামুলক বিবেচিত হবে। কেননা, বিরুদ্ধশক্তির মোকাবেলা করতে এসে যদি নিজেদের মধ্যকার মতপার্থক্য নিয়ে দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়া হয়; তাহলে আমি কোনভাবেই এই ঐক্যের কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। (শেষ বাক্যটা অতিরিক্ত সতর্কতামূলক; বর্তমান বাস্তবতা থেকে নয়।)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উদ্দেশ্য: প্রথমেই নির্ধারণ করে নিতে হবে যে, আমরা কি উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ হতে যাচ্ছি? একথা সত্য যে, অপরের অন্তর দেখার সামর্থ্য আমাদের সাধ্যাতীত, তাই বাহ্যিক কথা, কাজ ও অন্যান্য তৎপরতাই তার সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছার ব্যাপারে আমাদের জন্য একমাত্র অবশিষ্ট মাধ্যম। সুতরাং বাহ্যিক তৎপরতা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অন্যের অন্তরকে আল্লাহর উপর সোপর্দ করে দিয়ে আমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অন্তরের নিয়্যত ও উদ্দেশ্যকে মজবুত করে নিতে হবে। আর তা এছাড়া আর অ্য কোন কারণে নয় যে, "এই ঐক্যের সকল তৎপরতার উদ্দেশ্য একমাত্র আমাদের পরম প্রিয় প্রতিপালক আল্লাহ্ তা'আলাকে সন্তুষ্ট করা"। মনে রাখতে হবে যে, ইখলাছ বিহীন কাজ আর প্রাণহীন দেহের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;লক্ষ্য: একজন মুসলমানের সেটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত যা ইসলামের লক্ষ্য। পৃথিবীতে ইসলামের আগমন কেন ঘটলো? কেন নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ্ তা'আলা পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন? এই মৌলিক উদ্দেশ্যগুলো জানতে পারলেই একজন মুসলমানের পক্ষে সহজেই সম্ভব হবে তার নিজস্ব লক্ষ্য নির্ধারণ করা। আর তা কি এই নয় যে, "ইসলাম এসেছে একজন মানুষকে একটা ছোট্ট মুচকি হাসি উপহার দেয়া থেকে শুরু করে শুধুমাত্র দেশ নয়; সারা বিশ্বকে শাসন করতে", অবশ্যই তা এবং তা এ জন্য যে, এর মাধ্যমেই ইসলামের অনুসারী দুনিয়াতে শান্তি স্থাপন করবে এবং আখেরাতে তা তার মুক্তির কারণ হবে। ক্ষুদ্র থেকে ব্যাপক সকল বিষয়েই ইসলাম তার দখল চায় বলেই একজন মুসলিম তার জীবনের লক্ষ্য হিসেবেও সেটাই নির্ধারণ করে নেবেন যে, অপর কোন মানুষের সাথে দেখা হলে সবচেয়ে ক্ষুদ্র কাজটুকু-একটু মুচকি হাসি দান-থেকে শুরু করে প্রয়োজন হলে আল্লাহর পথে অস্ত্র ধারণ করে লড়াই কিংবা শুধুমাত্র দ্বীনের জন্য ইসলামকে ধ্বংস করতে আসা শত্রুকে হত্যা করতে পর্যন্ত দ্বিধান্বিত হবেন না।&lt;br /&gt;সুতরাং ভাবুন, সমগ্র বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তথা শান্তি বিতরণের জন্য যে দ্বীনের আগমন, সে দ্বীনের ধারক হয়ে কি করে পারস্পরিক খুটিনাটি বিষয়কেই জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করি? না! বরং এক এক জন মুসলমানের লক্ষ্য থাকতে হবে ক্ষুদ্র থেকে নিয়ে শুরু করে যেন এ বিশ্বকে প্রয়োজনে কিংবা দায়িত্ব বর্তালে সে নিজেই পরিচালনা করবে অথবা তার নেতাকে জান-প্রাণ দিয়ে সহযোগিতা করবে। আল্লাহ্ কি আমাদেরকে এ দোআ করতে শেখাননি: وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا ((এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের ইমাম বানিয়ে দিন।)) [সূরা আল-ফুরকান: ৭৪]। ভুল বুঝার কোন অবকাশ নেই, উপরের কথায় বলা হয়েছে প্রত্যেক মুমিন "প্রয়োজনে কিংবা দায়িত্ব বর্তালে" আর আয়াতে وَاجْعَلْنَا বলে বলা হয়েছে বহুবচনে; তাই নেতৃত্বের জন্য এককভাবে নিজেকে পেশ করা বা নেতৃত্বের আকাংখা পোষণ করা দোষণীয়; সন্দেহ নাই। কিন্তু দো'আ করতে হবে যেন নেতৃত্বটা মুসলমানদের নিকট আসে এবং মুসলমানদের যোগ্যতর ব্যক্তির নিকট তা সোপর্দ হয় আর সে জন্য চাই সুবিশাল অন্তরের পরিধি। কারো লক্ষ্য যদি হয় শুধুমাত্র মসজিদ তথা মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত ইবাদাতই তার দ্বীন, ইসলাম, জীবন বিধান, আল্লাহকে পাওয়ার যাবতীয় কর্মতৎপরতা আর জীবনের বাকী অংশকে ছেড়ে দেয় অন্য কোন ব্যবস্থার জন্য; তাহলে তার পক্ষে কস্মিনকালেও সম্ভব নয় ইসলামের লক্ষ্য বাস্তবায়ন কিংবা সে লক্ষ্যে কাজ করা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ব্যবধান: খোলাফায়ে রাশেদার সোনালী যুগের পর থেকেই মুসলমানদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যবধান, ভাঙ্গন। আর এসবের পেছনে যে ইয়াহূদী, নাসারা ও মুশরিকদের ষড়যন্ত্র এবং নিজেদের মধ্যকার মুনাফেকদের চক্রান্ত কার্যকর ছিল তা ঐতিহাসিকভাবেই সত্য এবং প্রমাণিত। যেসবের ফলশ্রুতিতে মুসলমানদের মধ্যে এখন বিভিন্ন উপদল বিদ্যমান এবং বলাই বাহুল্য যে, প্রায় সবগুলো উপদলই ভ্রান্ত এবং পথভ্রষ্ট। তাদের বিস্তারিত কিংবা সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণও এই লেখার উদ্দেশ্য নয় বিধায় যারা সত্যের তথা মূল ইসলামী আকীদা-বিশ্বাসের উপর এবং সবচেয়ে কাছাকাছি, তাদের সম্পর্কেই আলোচনা করা যাক।&lt;br /&gt;যারা আক্বীদা-বিশ্বাসে সঠিকভাবে ইসলামের উপর দণ্ডায়মান কিংবা সবচেয়ে নিকটবর্তী, তাদের মধ্যে কেউ কেউ আত্মকেন্দ্রিক ইবাদাতে মশগুল, বহিঃর্বিশ্ব নিয়ে তার কোন মাথাব্যাথা নেই, কেউ পীর কিংবা তার পছন্দনীয় আলেমের কথাকেই দ্বীনের সর্বোচ্চ মাপকাঠি ধরে নিয়েছে, কেউ শুধুমাত্র শির্ক-বিদ'আত দূর করাকেই পূর্ণাঙ্গ দ্বীনের কাজ হিসেবে সাব্যস্ত করেছে, কেউ মাযহাব কিংবা ফেকাহ্ শাস্ত্রের মতপার্থক্যগুলো নিয়ে জোরালো বক্তব্য প্রদান কিংবা সংগ্রাম করাকেই দ্বীন ধরে নিয়েছে আবার কেউ কেউ সকল কিছু মিলিয়ে সঠিক দ্বীনের উপর পৌঁছানোর সাধনায় লিপ্ত রয়েছে। তবে সুখের কথা এই যে, বর্তমান প্রেক্ষিতে মোটামুটি সকলেই একথা বুঝতে সক্ষম হয়েছেন যে, দ্বীন ইসলাম ব্যক্তিগত পর্যায়ে মেনে চলার মত কোন ধর্ম নয় কেবল; বরং এটি একটি পরিপূর্ন জীবন ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠা পাওয়াই যার লক্ষ্য। এখন প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে যে, এসব ব্যবধান ও বিভিন্নতায় আমরা কি করে ঐক্যবদ্ধ হবো?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মজবুত রশি: মূলত একজন মুমিনের জীবনের যাবতীয় অংশই ইবাদাত কিংবা পাপ; এর বাইরে তার জন্য একটি মুহূর্তও বাকী নেই। তার নড়াচড়া থেকে শুরু করে খাওয়া, ঘুম, চাকুরীসহ যাবতীয় কাজ তখনি ইবাদাত হবে যখন সেসবকে সে আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের অভিপ্রায়ে এবং তাঁর রাসূলের দেখানো সুন্নাত বা পন্থা অনুযায়ী সম্পন্ন করবে। এক কথায় মৌলিক কিংবা যৌগিক সকল ইবাদাত আল্লাহর নিকট কবূল হওয়ার শর্ত হলো দু'টি- ১) শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নিবেদিত হওয়া অর্থাৎ, ইখলাছ এবং ২) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো পন্থা অনুযায়ী হওয়া অর্থাৎ, সুন্নাতের অনুসরণ। অতএব, আমরা প্রত্যেকেই চাই যে, আমাদের ইবাদাতগুলো আল্লাহর দরবারে কবূল হোক আর যদি সত্যিকার অর্থেই তাই চেয়ে থাকি, তবে দ্বীনের জন্য কাজ করা বা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মত সুবিশাল ইবাদাতের ক্ষেত্রেও তা চাইতে কুণ্ঠাবোধ করবো না কখনোই।&lt;br /&gt;আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য কি আমাদের পরম প্রিয় প্রতিপালক আল্লাহ্ তা'আলার এই আহ্বানই যথেষ্ট নয়: وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ((অতপর তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না।)) [সূরা আরে ইমরান: ১০৩]? আমরা যদি সত্যিকার অর্থেই এই ঈমান রাখি যে, আল্লাহর বাণী আল-কুরআন এবং তাঁর পরোক্ষ বিধান আল-হাদীস-যা রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্তমান-আমাদের জন্য ফুরকান বা সত্য-মিথ্যার মীমাংসাকারী; তবে কেন এমন সুবিচারক আল্লাহর এই আদেশের নিকট মাথা নত করে দিতে পারবো না যিনি আমাদেরকে এভাবে বুঝাচ্ছেন: فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا  ((কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটলে তা উপস্থাপিত কর আল্লাহ্ ও রাসূলের নিকট , যদি তোমরা আল্লাহ্ ও আখেরাতে বিশ্বাস কর। এ পন্থাই উত্তম এবং পরিণামে প্রকৃষ্টতর।)) [সূরা আন্-নিসা: ৫৯]&lt;br /&gt;অতএব, মুমিনদের মধ্যে যারা সুদৃঢ়ভাবে তাদের একমাত্র প্রতিপালক ও মাবূদ আল্লাহ্ তাআলার উপর ঈমান রাখে এবং ইয়াকীন রাখে আখেরাতে তাদের প্রতিটি কর্মের সুবিচারক আল্লাহর আদালতে দণ্ডায়মান হবার ব্যাপারে, তাদের কি উচিত নয় নিজেদের মধ্যকার মতভেদগুলোকে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের নিকট উপস্থাপন করা? আর একথা প্রতিজন মুসলিম বিদিত যে, আল্লাহর নিকট উপস্থাপন বলতে তাঁর বাণী আল-কুরআন এবং তাঁর রাসূলের নিকট উপস্থাপন বলতে শেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর নিকট উপস্থাপন করাকে বুঝায়। সুতরাং মুমিনদের মধ্যকার পারস্পরিক ঐক্য সংস্থাপিত হতে পারে কেবলমাত্র কুরআন এবং সুন্নাহর সত্যিকারের অনুসরণ তথা এ দুই মূলনীতির আলোকে প্রণীত সুষ্ঠু নীতিমালার মজবুত বন্ধনে। কেবলমাত্র তখনি সম্ভব হতে পারে সর্বপ্রকার লড়াইয়ের ময়দানে ঈমানদারদের জন্য আল্লাহর দেয়া উপমার সঠিক বাস্তবায়ন কেননা, আল্লাহ্ তাঁর ভালবাসা ঘোষণা করেছেন এর বাস্তবায়নে: إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُمْ بُنْيَانٌ مَرْصُوص ((নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাদেরকে ভালবাসেন যারা তাঁর পথে লড়াই করে সারিবদ্ধভাবে; যেন তারা সীসাঢালা প্রাচীর।)) [সূরা আস্-সফ: ৪]।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নীতিমালা প্রনয়ণ: মানুষে মানুষে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, এটা সর্বক্ষেত্রের জন্যই স্বাভাবিক। কিন্তু এক আল্লাহর বান্দা হয়ে, এক রাসূলের উম্মাত হয়ে, এক কুরআনের অনুসারী হয়ে এবং (সম্মিলিত সংগ্রহে) একই মূলসূত্র নিসৃত হাদীসের আলোকে জীবন ধারার সাধনাকারীদের মধ্যে কেন মতপার্থক্য হবে; এমন প্রশ্নে অনেকেই বিভ্রান্ত বোধ করে থাকেন। আমি বলবো- মত পার্থক্য এখানেও হতে পারে, তবে এর উদাহরণ এক গুচ্ছ প্রান্ত গ্রন্থিত ঝুলানো সুতোর মত, যার এক প্রান্ত গ্রন্থিত থাকার কারণে অপর প্রান্ত বাতাসের তোড়ে যতদূর, যেভাবে এবং যত আঁকা-বাঁকাতেই পাড়ি জমাক না কেন, হারিয়ে যায় না কোনভাবেই, বারে বারেই তার গ্রন্থির টানে অবস্থান করতে হয় তাকে তার নির্দিষ্ট সীমানার আওতায়, তার সারল্যে। অবশ্য যদি ছিঁড়ে যায়, কিংবা ছেঁড়া হয়ে থাকে, তবে তো ভিন্ন কথা। অতএব, মুমিনগণও মতের পার্থক্যের কারণে চিন্তা ও কর্মে বিভিন্নতা আনতে পারেন, তবে তা অবশ্যই কুরআন ও হাদীসের গণ্ডীর আওতায় থেকে; এর বাইরে চলে গেলে ব্যক্তির পক্ষে আর মুমিন থাকা চলবে না, সমাজের চোখে সে যত সুন্দর মুসলিম নাম ধারী কিংবা শ্বশ্রুমণ্ডিত হুজুরই হন না কেন। তদুপরি মতপার্থক্যের ধরন ও শেষ সীমাও আমাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে সাহাবায়ে কেরামের কার্যক্রম থেকে।&lt;br /&gt;ভিন্ন রেওয়ায়েতে কুরআন তিলাওয়াত করাসহ এমন আরো অসংখ্য ঘটনায় উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখা গেছে যে, অন্য কোন সাহাবীর জামা ধরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে আসলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে, অথচ দুজনেই ছিলনে সঠিক, জানা না থাকা এবং একাধিক বর্ণনা থাকার কারণে এহেন ঘটনাগুলো ঘটেছে, তারপর রাসূল তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিয়েছেন, তারা দুজন আবার পরম ভাই ভাই হয়ে গেলেন, বিন্দুমাত্র মনোকষ্ট দেখা যায়নি এসব ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে। কেননা, তারা ((কাউকে ভালবাসতেন আল্লাহর জন্য, কাউকে ঘৃণা করতেনও আল্লাহর জন্য, কাউকে কিছু দিতেন আল্লাহর জন্য, কাউকে কিছু দেয়া থেকে বিরত থাকতেনও আল্লাহর জন্য, এভাবেই তারা তাদের ঈমানের পূর্নতা এনেছেন।)) [হাদীসের ভাবার্থ, দেখুন- সুনানে আবু দাউদ: ৪০৬১]&lt;br /&gt;অতএব, আজো যদি মুমিনগণ ঐক্য এবং সম্প্রীতিতে নিজেদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বে সীসাঢালা প্রাচীর নির্মাণ করতে চায়, তবে নিজেদের মধ্যকার মতভেদগুলোকে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের নিকটই উপস্থাপন করতে হবে, অর্থাৎ, কুরআন ও হাদীসের নিকট। আর এ ধরনের প্রেক্ষাপটে সোনার মানুষ সাহাবায়ে কেরামগণের কার্যক্রম অনুসরনের কোন বিকল্প নেই।&lt;br /&gt;মোদ্দাকথা, এরই আলোকে আমাদেরকে একটি মধ্যমপন্থী নীতিমালার আওতায় আসতে হবে; যার অনুসরণ করা বা নির্দিষ্ট বিষয়াদিতে যার ভিত্তিতে কৃত ফয়সালাকে প্রত্যেককে আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর জন্যই মেনে নেয়ার মানসিকতা অর্জন করতে হবে। তৌফিকদাতা তো কেবলমাত্র আল্লাহ্ তাআলাই।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/32545972-5461625692384811077?l=shomoinirman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shomoinirman.blogspot.com/feeds/5461625692384811077/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=32545972&amp;postID=5461625692384811077' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/32545972/posts/default/5461625692384811077'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/32545972/posts/default/5461625692384811077'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shomoinirman.blogspot.com/2007/09/blog-post.html' title='সীসাঢালা প্রাচীর: নির্মাণ কৌশল'/><author><name>Fazle Elahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-32545972.post-115961962900855902</id><published>2006-09-30T18:12:00.000+06:00</published><updated>2006-09-30T18:33:49.026+06:00</updated><title type='text'>কল্যাণ বৃক্ষের বীজ বপন</title><content type='html'>&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;'কর্মই অর্জন, কর্মই সাফল্য এবং কর্মই সঞ্চয়' -এ কথাগুলো পৃথিবীর চিরন্তনী বাণীসমূহের শামিল। আমরা মুসলিম, আমাদের জন্য জীবন চলার বিধান আমাদের মহান স্রষ্টা সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র পক্ষ থেকেই পরিপূর্ণরূপে পাঠানো হয়েছে। তাই আমাদেরকে জীবন পরিচালনার জন্য কোন কিছুর জন্যই হাত পাততে হয় না অন্য কারো কাছে; তাই নিয়ে আমরা গর্বিত। হাত পাতে শুধুমাত্র সেইসব দুর্ভাগারাই, যারা আজো জানতে পারেনি, জানতে চেষ্টিত হয়নি তার আপন জীবন সম্পর্কে এবং তার বিধান সম্পর্কে। পৃথিবীতে সবচেয়ে পরিপূর্ণ জাতি হিসেবে সর্ববিদ উপায়-উপকরণ পাওয়ার পরও আমরা অধিষ্ঠিত হতে পারিনি প্রতিষ্ঠার শীর্ষ চূড়ায়। যে উচ্চস্থান আজ ভ্রান্ত-বিশ্বাসী, দুনিয়া-পূজারীদের দখলে, তা একদা আমাদের প্রভু আল্লাহ্ তা'আলাই দিয়েছিলেন আমাদেরকে। কিন্তু প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের অযোগ্যতার কারণে আমরা সে মসনদ থেকে ধিকৃত হয়েছি, বঞ্চিত হয়েছি, লাঞ্ছিত হয়েছি। জগতে যা কিছু অতীত হয়, তাকে আর বর্তমান বানানো যায় না। তাই আমাদের সম্মুখে এখন একটি পথই খোলা রয়েছে, আর তা হলো- অতীতকে বিশ্লেষণ করে, তাওবা করে, ভষ্যিতকে এমন বর্তমানের দিকে টেনে আনা, যে বর্তমান হবে আমাদের; একান্তই আল্লাহ্র বান্দাদের। আর সে টেনে আনাকে টানতে হবে এমনভাবে যে, সম্ভব হলে সর্বশক্তি দিয়ে অথবা দু'হাতে অথবা দাঁত দিয়ে কামড়ে হলেও অব্যাহত রাখতে হবে আমাদের প্রতিশ্রুত গন্তব্যের অভিযাত্রাকে। &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র পথে চলাটা আমাদের ঈমানের সাথে সম্পৃক্ত, তাই আমরা প্রত্যেকেই সে পথেই চলছি ইনশাআল্লাহ্। কিন্তু আমাদের প্রতি আমাদের স্রষ্টার নির্দেশঃ &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ اللّهِ جَمِيعاً وَلاَ تَفَرَّقُواْ وَاذْكُرُواْ. . . [سورة آل عمران - 103]&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;((তোমরা সকলে আল্লাহর রশি দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না. . .)) [সূরা আলে-ইমরানঃ ১০৩]&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;তাঁর মেহেরবানী যে, আমরা প্রত্যেকেই তাঁর আদেশকৃত জামা'আতী জীবন-যাপন করছি; আলহামদুলিল্লাহ। বৃহত্তর দিক থেকে চিন্তা করলে আমরা সকলেই আল্লাহ্র রশিকে ধারণ করে আছি এবং তাকে আরো মজবুত করার জন্য সদা সচেষ্ট। কিন্তু যে মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আজকে আমাদের এ সম্মিলন, তার ক্ষেত্র, পরিধি, পর্যায়, ধারা, পদ্ধতি এবং ফলাফল বাস্তবতা থেকে অনেক ভিন্ন। অথচ, এ ময়দানেই আমরা আমাদের জীবনের একটা বৃহৎ অংশকে ব্যয় করছি। এ অংশের সবটুকুই যে ব্যর্থ তা আমি বলতে চাই না; বরং প্রত্যেকেই নিজেদের সময়-সুযোগ ও যোগ্যতানুযায়ী স্বল্প-বিস্তর দ্বীনের খেদমত করছি কিংবা করার সদিচ্ছা পোষণ করছি। সুতরাং আমরা কেন বিশ্বব্যাপী এই ময়দানে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকবো যেখানে আমাদের সকলের সর্বোচ্চ প্রিয় আল্লাহ্ রাব্বুল 'আলামীন বলেছেনঃ &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفّاً كَأَنَّهُم بُنيَانٌ مَّرْصُوصٌ. [سورة الصف - 4]&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;((আল্লাহ্ তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে; যেন তারা সীসা গালানো প্রাচীর।)) [সূরা আস্-সফঃ ৪] &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;আর একথা অতু্যক্তি নয় যে, আন্তর্জালের ইসলাম পন্থীদের জন্য বিশেষ করে বাংলা ভাষাভাষী দ্বীনের দা'য়ীদের জন্য স'বে মাত্র প্রারম্ভ। এই সুযোগটাকে গ্রহণ করে বাতিল, নাস্তিক শক্তি রীতিমত সংজ্ঞবদ্ধ। তাই এই সংজ্ঞবদ্ধ চক্রের চক্রান্তের জাল ছিন্ন করে সেখানে ইসলামের সুশীতল ছায়া বিস্তার করা মোটেও সহজসাধ্য কোন কাজ নয়; বরং আমাদের জন্য তা 'কলম-যুদ্ধ' বা 'চিন্তা-গবেষণার যুদ্ধ' হিসেবে বিবেচ্য। পরিস্থিতি এবং কল্যাণ যেখানে এমনতর, সেখানে কেন আমরা পরস্পর সম্মিলিতভাবে নিজেদের সৎকর্মগুলো এবং আল্লাহ্র দ্বীনের যৎসামান্য খেদমতগুলোকে একটা যৌথ রূপ দিয়ে অধিক পরিমাণ কল্যাণ এবং বাস্তব ফলাফল লাভ করবো না? যেখানে এই যৌথ রূপ বা জামা'আতের মধ্যেই রয়েছে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র দান, রহমত। &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;عن ابن عباس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم, ((يد الله على الجماعة.)) [رواه الترمذي]&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ঃ ((জামা'আতের উপর আল্লাহ্র হাত রয়েছে।)) [তিরমিযী] &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;সুতরাং আমাদের উচিত আর বিচ্ছিন্নভাবে নয়; বরং যত ক্ষুদ্র এবং নগন্যই হই না কেন, সবাই সম্মিলিতভাবেই ইসলামের খেদমতে সাধ্যানুযায়ী আত্মনিয়োগ করি। একথা ভেবে কিংবা আগামী দিনের ফলাফলে চিন্তায় আমাদের মধ্যে হতাশা আসতে পারে যে, হয়ত পুরো মাস জুড়ে আমরা মাত্র কয়েকটি পৃষ্ঠা কাজ করলাম। অর্থাৎ, আমাদের কাজের গতি অথবা ফলাফল দেখে আমরা কখনো কখনো বিচলিত হতে পারি। কিন্তু না, আমাদের তেমনটি চিন্তা করা উচিত নয়, কারণ, প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;ولا تحقون من المعروف شيئا. . [مسلم]&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;অর্থাৎ, ((কোন ভাল কাজকেই তুচ্ছ করে দেখো না।)) [মুসলিম] একথা সত্য যে, আমরা সবাই চাইবো যেন খুব দ্রুত গন্তব্য ছুঁতে পারি। এটাই আমাদের অর্থাৎ, মানুষের বৈশিষ্ট্য। অথচ আল্লাহ্র প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু 'আনহু আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যেঃ &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;التأني من الله والعجلة من الشيطان. [قال المنذري: رواه أبو يعلي ورواته رواة الصحيح]&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;অর্থাৎ, (ধীরস্থিরতা আল্লাহ্র পক্ষ হতে আর তাড়াহুড়ো শয়তানের পক্ষ থেকে।) [আত্-তাগরীব ওয়াত্-তারহীব] &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;এছাড়াও এ প্রতিটি কাজেরই গন্তব্য থাকে, আমাদেরও আছে, থাকবে; কিন্তু সর্বাগ্রে আমাদেরকে দেখতে হবে যে, সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র নিকট আমরা কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবো- 'গন্তব্যে পেঁৗছুতে পেরেছি'? না কি 'গন্তব্যে পৌঁছুতে কি কি চেষ্টা-সাধনা করেছি'? অবশ্যই দ্বিতীয় বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবো আমরা সকলেই। কারণ, বিজয় একমাত্র মহান আল্লাহ্র হাতেই রয়েছে, আমাদের সাধ্যের আওতায় রয়েছে আমাদের কর্মসমূহ; যা দ্বারা আমরা সর্বান্তঃকরণে চেষ্টা করবো বিজয়কে স্পর্শ করতে। এখানেই আমাদের সফলতা, যার হাজার হাজার উদাহরণ রয়েছে আল্লাহ্র পথে জীবন দানকারী শহীদদের মাঝে। তারা তো বিজয়ের পথে পথে চলতে গিয়েই শাহাদাত বরণ করেছেন, আবার কখনো কখনো দুনিয়ার পরাজয়ও বরণ করেছেন; কিন্তু তাই বলে কি তারা ব্যর্থ? কখ্খনো নয়। কারণ, আল্লাহ্ কারুরই কোন ভাল কাজকে ব্যর্থ করেন না। তিনি দয়াময়, অত্যন্ত মেহেরবান। তাই আসুন আমরা আমাদের লক্ষ্যের সূচনা বীজ আজ এখানেই এই ছোট্ট পরিসরে রোপন করি এবং দয়াময় আল্লাহ্র কাছে দো'আ করি, তিনি যেন আমাদের এই বীজ থেকে পৃথিবীব্যাপী এক মহীরূহের বিস্তার করে দেন। আমীন। &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;৩০.০৯.২০০৬ ইং&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;ফজলে এলাহি, মদীনা মুনওয়ারা, সৌদি আরব।&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/32545972-115961962900855902?l=shomoinirman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shomoinirman.blogspot.com/feeds/115961962900855902/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=32545972&amp;postID=115961962900855902' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/32545972/posts/default/115961962900855902'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/32545972/posts/default/115961962900855902'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shomoinirman.blogspot.com/2006/09/blog-post.html' title='কল্যাণ বৃক্ষের বীজ বপন'/><author><name>Fazle Elahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-32545972.post-115554256676569217</id><published>2006-08-14T11:07:00.000+06:00</published><updated>2006-08-14T14:21:42.700+06:00</updated><title type='text'>এক দেহ ও সুদৃঢ় প্রাচীরঃ সময় নির্মাণ</title><content type='html'>&lt;div align="center"&gt;&lt;span style="font-size:180%;"&gt;&lt;strong&gt;এক দেহ ও সুদৃঢ় প্রাচীরঃ সময় নির্মাণ&lt;/strong&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;===============================&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;বিভাজনটা আসলে ওদের পক্ষ থেকেই ছিল, নইলে আল্লাহ্ আদমকে সৃষ্টি করলেন আর শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা দিলেন, তারপরই বললেনঃ ফিরিশতাসহ ইবলীস তুমিও সিজদা কর আদমকে। অনুগত ফিরিশতাকুল তো করলো কিন্তু সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাথে অবাধ্যতা করলো ইবলীস, পরিণামে আল্লাহ্ তাকে করলেন চিরবিতাড়িত। স্বঘোষিত শত্রু হয়েই শত্রুতায় নামলো ইবলীস আদমের সাথে, সন্দেহ নেই স্রষ্টার সৃষ্টিতে আর আমাদের শুরুতেই এমন ঘটনা ভয়াবহ, কিন্তু তার চেয়েও ভয়াবহ যে আদমকে সিজদা না করার জন্য ইবলীসের এই বিতাড়ন, সেই আদম-সন্তানদেরই একটা বিরাট অংশ উল্টো ইবলীসকেই সিজদা করছে আর তার হুকুম-আহকাম অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে মেনে চলছে জীবনপণ করে। আর তাই আমরা কেউ কেউ যতই নিরপেক্ষ কিংবা সর্বংসহা হতে চেষ্টিত হই না কেন তেল আর জলের মতই এই ব্যবধান অনিবার্য; দিন-রাত আর আলো-আঁধারের মতই সত্য। মাঝখানের আলো-আঁধারির আলেয়ার মাঝে রয়েছে শুধুই বিভ্রান্তি আর কপটতা; যা নিতান্তই আত্মহত্যার শামিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আল্লাহ্ সোবহানাহু ওয়াতা'আলা বলেনঃ&lt;br /&gt;"The Believers are but a single Brotherhood: so make peace and reconciliation between your two (contending) brothers; and fear God, that ye may receive Mercy." [Sura Al-Hujraat : 10]&lt;br /&gt;অর্থাৎ, "মু'মিনগণ পরস্পর ভাই ভাই; কাজেই তোমরা ভাইদের মধ্যে শান্তি স্থাপন কর আর আল্লাহ্কে ভয় কর যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।" [সূরা আল-হুজরাতঃ ১০]&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ এক অসাধারণ ভ্রাতৃত্ব-বন্ধন, যা আমরা পেয়েছি আমাদের জন্য দয়াময় আল্লাহর প্রেরিত জীবন বিধান থেকে; যেখানে রক্ত গৌণ- বিশ্বাস এবং আদর্শই মূখ্য। এর জন্য মানুষ আদিষ্ট হয়েছে রক্তের সম্পর্ককে ছিন্ন করতে, উদাহরণ হয়ে আছেন নবী নূহ্ 'আলাইহিস্ সালাম এবং তদীয় পুত্র; যে কাফের ছিল এবং বন্যায় ভেসে গিয়েছিল। এ সম্পর্কের জন্য বঞ্চিত হতে হয় পিতৃস্নেহ থেকে, যেমন হয়েছিলেন ইব্রাহীম 'আলাইহিস্ সালাম; আযর নিজেই যাকে আগুনে ফেলার জন্য সমর্থন দিয়েছিল। এর জন্য ভালবাসাকে কুরবান করতে হয়; যেমন করেছিলেন আযাব আসার পূর্বমুহূর্তে আল্লাহ্র আদেশে লূত 'আলাইহিস্ সালাম তার বেঈমান স্ত্রীকে পিছনে ফেলে এসে। শুধু যে ত্যাগ করতে হয় তাই কিন্তু নয়; বরং যে রক্ত ঐতিহ্য থেকে অনাগতকে বেঁধে রাখে আত্মার বন্ধনে, পরম প্রভুর ডাকে কখনো কখনো রুখেও দাঁড়াতে হয় সেই আপন রক্তেরই বিরুদ্ধে; আমাদেরই সেই ইতিহাস রয়েছে 'বদর যুদ্ধ'সহ ইসলামের প্রাথমিক যুগের বহু লড়াইয়ে-বিগ্রহে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ সম্পর্কের দাবী তাই জীবনে-মরণে "এক দেহ", যেমনটি প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা থেকে জানতে পারিঃ&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;Narrated By An-Nu'man bin Bashir : Allah's Apostle said, "You see the believers as regards their being merciful among themselves and showing love among themselves and being kind, resembling one body, so that, if any part of the body is not well then the whole body shares the sleeplessness (insomnia) and fever with it." [Bukhari : 40]&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;যে দেহের পায়ে যদি কোন কাঁটা ফুটে কিংবা শরীরের কোথাও যদি আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তাহলে যন্ত্রণা অনুভূত হবে মাথায়, ব্যথিত হবে শরীরের প্রতিটি কোষ, প্রাবল্যে অসুস্থ হবে জ্বরাক্রান্ত হবে গোটা দেহ; আমাদের গোটা জাতি পরস্পরের ভালবাসায়, ভ্রাতৃত্বে, সহযোগিতায় এমন দৃষ্টান্ত দাবী করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আর ময়দানের দাবী হলো- "সুদৃঢ় প্রাচীর"। সর্বশক্তিমানের আদেশঃ&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;"Truly God loves those who fight in His Cause in battle array, as if they were a solid cemented structure." [Sura As-Saaf : 4]&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;অর্থাৎ, "যারা আল্লাহ্র পথে সংগ্রাম করে সারিবদ্ধভাবে সুদৃঢ় প্রাচীরের মত, আল্লাহ্ তাদেরকে ভালবাসেন।" [সূরা আস্-সফঃ ৪] এ ময়দান সত্য প্রতিষ্ঠার, এ প্রান্তর আল্লাহর যমীনে আল্লাহ্র দ্বীনকে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রান্তর। যে সংগ্রামের শুরুটি হয় সুমিষ্ট এক আহ্বান দ্বারা আর যার চুড়ান্ত পরিণতি সশস্ত্র লড়াই! যদি প্রয়োজন হয় তো আমাদের জীবন-মরণ, সহায়-সম্পদ সবকিছুর মালিক আল্লাহ্র পথে প্রাণ নেবো আর প্রাণ দেবো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমরা ভালবাসি আমাদের স্রষ্টাকে, তাই ভালবাসি স্রষ্টার পছন্দের সমস্ত সৃষ্টিকে, কেবলমাত্র যেসবকে তিনি ভালবাসতে নিষেধ করেছেন সেসবকেই ঘৃণা করি। যে মহাসত্যের সন্ধান পেয়ে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি, সে শান্তির আঙনে তাই দেখতে চাই ভালবাসার প্রতিটি অন্তরকে। সকল ঘৃণা-বিদ্বেষের, হিংসা-জিঘাংসার, শত্রুতা-হিংস্রতার জবাব তাই আমরা দেবো ভালবাসা দিয়ে, সত্য দিয়ে, হেকমত বা সুকৌশলে। আমাদের লক্ষ্য দুনিয়া ও আখেরাতের সমূহ কল্যাণ-প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের প্রভূ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। সে লক্ষ্যই আমাদের আসল, চিরন্তন এবং পৃথিবীতে আগমনের কারণ। চারপাশের সবকিছুই আমাদের লক্ষ্য অর্জনের উপাদান মাত্র, তাই ব্যথিত হবো না; হবো দৃঢ়পদী; ভালবাসবো প্রাণ খুলে, প্রমাণ দেবো কথায়-কর্মে; যদিও চলতে হয় একাকী, তবে তাই চলবো, তবে কি আমি ব্যর্থ? কখখনো নয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যুগে যুগে ইসলামের সরল-সঠিক পথে চলা মানুষেরা সমগ্র মুসলিম জাতিকে ভেবেছেন একটি দেহের মত করে, অনুভবে, কর্মে আর ত্যাগের মহিমায়ও সেই সত্যতার সাক্ষী হয়ে তারা আছেন এবং থাকবেন আমাদের সমস্ত চেতনা জুড়ে। সত্য পথের আজকের যাত্রীদেরও তাই এই প্রতিজ্ঞা নিতে হবে- আমরা সমস্ত মুসলিম এক দেহ! এক জাতি। ময়দানের প্রতিটি বাঁকেই আল্লাহ্র সৈনিকদের জন্য ওঁৎ পেতে আছে বাতিলের হিংস্র থাবা। সেখানে যদি বিচ্ছিন্ন হয় অগ্রবর্তী, মধ্যভাগ কিংবা পশ্চাতে চলা কোন সেনানী, তবেই তাকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হতে হবে কালের হায়েনার হাতে। তাই চাই ঐক্য, আল্লাহ্র ভালবাসা পেতে, তাঁরই উদ্দেশ্যে আমাদের জীবনপণ করে গড়ে তুলি শীষাঢালা সুদৃঢ় প্রাচীর; যা ভেদ করার সাধ্য পৃথিবীর কোন শক্তির থাকবে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমরা কি হতে চাই প্রাচীরের এক একটি খুঁটি??????????????&lt;br /&gt;=০=&lt;/div&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/32545972-115554256676569217?l=shomoinirman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://fazle-elahi.blogspot.com/' title='এক দেহ ও সুদৃঢ় প্রাচীরঃ সময় নির্মাণ'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shomoinirman.blogspot.com/feeds/115554256676569217/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=32545972&amp;postID=115554256676569217' title='3টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/32545972/posts/default/115554256676569217'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/32545972/posts/default/115554256676569217'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shomoinirman.blogspot.com/2006/08/blog-post_14.html' title='এক দেহ ও সুদৃঢ় প্রাচীরঃ সময় নির্মাণ'/><author><name>Fazle Elahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>3</thr:total></entry></feed>
