এক দেহ ও সুদৃঢ় প্রাচীরঃ সময় নির্মাণ
===============================
===============================
বিভাজনটা আসলে ওদের পক্ষ থেকেই ছিল, নইলে আল্লাহ্ আদমকে সৃষ্টি করলেন আর শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা দিলেন, তারপরই বললেনঃ ফিরিশতাসহ ইবলীস তুমিও সিজদা কর আদমকে। অনুগত ফিরিশতাকুল তো করলো কিন্তু সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাথে অবাধ্যতা করলো ইবলীস, পরিণামে আল্লাহ্ তাকে করলেন চিরবিতাড়িত। স্বঘোষিত শত্রু হয়েই শত্রুতায় নামলো ইবলীস আদমের সাথে, সন্দেহ নেই স্রষ্টার সৃষ্টিতে আর আমাদের শুরুতেই এমন ঘটনা ভয়াবহ, কিন্তু তার চেয়েও ভয়াবহ যে আদমকে সিজদা না করার জন্য ইবলীসের এই বিতাড়ন, সেই আদম-সন্তানদেরই একটা বিরাট অংশ উল্টো ইবলীসকেই সিজদা করছে আর তার হুকুম-আহকাম অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে মেনে চলছে জীবনপণ করে। আর তাই আমরা কেউ কেউ যতই নিরপেক্ষ কিংবা সর্বংসহা হতে চেষ্টিত হই না কেন তেল আর জলের মতই এই ব্যবধান অনিবার্য; দিন-রাত আর আলো-আঁধারের মতই সত্য। মাঝখানের আলো-আঁধারির আলেয়ার মাঝে রয়েছে শুধুই বিভ্রান্তি আর কপটতা; যা নিতান্তই আত্মহত্যার শামিল।
আল্লাহ্ সোবহানাহু ওয়াতা'আলা বলেনঃ
"The Believers are but a single Brotherhood: so make peace and reconciliation between your two (contending) brothers; and fear God, that ye may receive Mercy." [Sura Al-Hujraat : 10]
অর্থাৎ, "মু'মিনগণ পরস্পর ভাই ভাই; কাজেই তোমরা ভাইদের মধ্যে শান্তি স্থাপন কর আর আল্লাহ্কে ভয় কর যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।" [সূরা আল-হুজরাতঃ ১০]
এ এক অসাধারণ ভ্রাতৃত্ব-বন্ধন, যা আমরা পেয়েছি আমাদের জন্য দয়াময় আল্লাহর প্রেরিত জীবন বিধান থেকে; যেখানে রক্ত গৌণ- বিশ্বাস এবং আদর্শই মূখ্য। এর জন্য মানুষ আদিষ্ট হয়েছে রক্তের সম্পর্ককে ছিন্ন করতে, উদাহরণ হয়ে আছেন নবী নূহ্ 'আলাইহিস্ সালাম এবং তদীয় পুত্র; যে কাফের ছিল এবং বন্যায় ভেসে গিয়েছিল। এ সম্পর্কের জন্য বঞ্চিত হতে হয় পিতৃস্নেহ থেকে, যেমন হয়েছিলেন ইব্রাহীম 'আলাইহিস্ সালাম; আযর নিজেই যাকে আগুনে ফেলার জন্য সমর্থন দিয়েছিল। এর জন্য ভালবাসাকে কুরবান করতে হয়; যেমন করেছিলেন আযাব আসার পূর্বমুহূর্তে আল্লাহ্র আদেশে লূত 'আলাইহিস্ সালাম তার বেঈমান স্ত্রীকে পিছনে ফেলে এসে। শুধু যে ত্যাগ করতে হয় তাই কিন্তু নয়; বরং যে রক্ত ঐতিহ্য থেকে অনাগতকে বেঁধে রাখে আত্মার বন্ধনে, পরম প্রভুর ডাকে কখনো কখনো রুখেও দাঁড়াতে হয় সেই আপন রক্তেরই বিরুদ্ধে; আমাদেরই সেই ইতিহাস রয়েছে 'বদর যুদ্ধ'সহ ইসলামের প্রাথমিক যুগের বহু লড়াইয়ে-বিগ্রহে।
এ সম্পর্কের দাবী তাই জীবনে-মরণে "এক দেহ", যেমনটি প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা থেকে জানতে পারিঃ
Narrated By An-Nu'man bin Bashir : Allah's Apostle said, "You see the believers as regards their being merciful among themselves and showing love among themselves and being kind, resembling one body, so that, if any part of the body is not well then the whole body shares the sleeplessness (insomnia) and fever with it." [Bukhari : 40]
যে দেহের পায়ে যদি কোন কাঁটা ফুটে কিংবা শরীরের কোথাও যদি আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তাহলে যন্ত্রণা অনুভূত হবে মাথায়, ব্যথিত হবে শরীরের প্রতিটি কোষ, প্রাবল্যে অসুস্থ হবে জ্বরাক্রান্ত হবে গোটা দেহ; আমাদের গোটা জাতি পরস্পরের ভালবাসায়, ভ্রাতৃত্বে, সহযোগিতায় এমন দৃষ্টান্ত দাবী করে।
আর ময়দানের দাবী হলো- "সুদৃঢ় প্রাচীর"। সর্বশক্তিমানের আদেশঃ
আর ময়দানের দাবী হলো- "সুদৃঢ় প্রাচীর"। সর্বশক্তিমানের আদেশঃ
"Truly God loves those who fight in His Cause in battle array, as if they were a solid cemented structure." [Sura As-Saaf : 4]
অর্থাৎ, "যারা আল্লাহ্র পথে সংগ্রাম করে সারিবদ্ধভাবে সুদৃঢ় প্রাচীরের মত, আল্লাহ্ তাদেরকে ভালবাসেন।" [সূরা আস্-সফঃ ৪] এ ময়দান সত্য প্রতিষ্ঠার, এ প্রান্তর আল্লাহর যমীনে আল্লাহ্র দ্বীনকে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রান্তর। যে সংগ্রামের শুরুটি হয় সুমিষ্ট এক আহ্বান দ্বারা আর যার চুড়ান্ত পরিণতি সশস্ত্র লড়াই! যদি প্রয়োজন হয় তো আমাদের জীবন-মরণ, সহায়-সম্পদ সবকিছুর মালিক আল্লাহ্র পথে প্রাণ নেবো আর প্রাণ দেবো।
আমরা ভালবাসি আমাদের স্রষ্টাকে, তাই ভালবাসি স্রষ্টার পছন্দের সমস্ত সৃষ্টিকে, কেবলমাত্র যেসবকে তিনি ভালবাসতে নিষেধ করেছেন সেসবকেই ঘৃণা করি। যে মহাসত্যের সন্ধান পেয়ে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি, সে শান্তির আঙনে তাই দেখতে চাই ভালবাসার প্রতিটি অন্তরকে। সকল ঘৃণা-বিদ্বেষের, হিংসা-জিঘাংসার, শত্রুতা-হিংস্রতার জবাব তাই আমরা দেবো ভালবাসা দিয়ে, সত্য দিয়ে, হেকমত বা সুকৌশলে। আমাদের লক্ষ্য দুনিয়া ও আখেরাতের সমূহ কল্যাণ-প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের প্রভূ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। সে লক্ষ্যই আমাদের আসল, চিরন্তন এবং পৃথিবীতে আগমনের কারণ। চারপাশের সবকিছুই আমাদের লক্ষ্য অর্জনের উপাদান মাত্র, তাই ব্যথিত হবো না; হবো দৃঢ়পদী; ভালবাসবো প্রাণ খুলে, প্রমাণ দেবো কথায়-কর্মে; যদিও চলতে হয় একাকী, তবে তাই চলবো, তবে কি আমি ব্যর্থ? কখখনো নয়।
যুগে যুগে ইসলামের সরল-সঠিক পথে চলা মানুষেরা সমগ্র মুসলিম জাতিকে ভেবেছেন একটি দেহের মত করে, অনুভবে, কর্মে আর ত্যাগের মহিমায়ও সেই সত্যতার সাক্ষী হয়ে তারা আছেন এবং থাকবেন আমাদের সমস্ত চেতনা জুড়ে। সত্য পথের আজকের যাত্রীদেরও তাই এই প্রতিজ্ঞা নিতে হবে- আমরা সমস্ত মুসলিম এক দেহ! এক জাতি। ময়দানের প্রতিটি বাঁকেই আল্লাহ্র সৈনিকদের জন্য ওঁৎ পেতে আছে বাতিলের হিংস্র থাবা। সেখানে যদি বিচ্ছিন্ন হয় অগ্রবর্তী, মধ্যভাগ কিংবা পশ্চাতে চলা কোন সেনানী, তবেই তাকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হতে হবে কালের হায়েনার হাতে। তাই চাই ঐক্য, আল্লাহ্র ভালবাসা পেতে, তাঁরই উদ্দেশ্যে আমাদের জীবনপণ করে গড়ে তুলি শীষাঢালা সুদৃঢ় প্রাচীর; যা ভেদ করার সাধ্য পৃথিবীর কোন শক্তির থাকবে না।
আমরা কি হতে চাই প্রাচীরের এক একটি খুঁটি??????????????
=০=
আমরা ভালবাসি আমাদের স্রষ্টাকে, তাই ভালবাসি স্রষ্টার পছন্দের সমস্ত সৃষ্টিকে, কেবলমাত্র যেসবকে তিনি ভালবাসতে নিষেধ করেছেন সেসবকেই ঘৃণা করি। যে মহাসত্যের সন্ধান পেয়ে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি, সে শান্তির আঙনে তাই দেখতে চাই ভালবাসার প্রতিটি অন্তরকে। সকল ঘৃণা-বিদ্বেষের, হিংসা-জিঘাংসার, শত্রুতা-হিংস্রতার জবাব তাই আমরা দেবো ভালবাসা দিয়ে, সত্য দিয়ে, হেকমত বা সুকৌশলে। আমাদের লক্ষ্য দুনিয়া ও আখেরাতের সমূহ কল্যাণ-প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের প্রভূ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। সে লক্ষ্যই আমাদের আসল, চিরন্তন এবং পৃথিবীতে আগমনের কারণ। চারপাশের সবকিছুই আমাদের লক্ষ্য অর্জনের উপাদান মাত্র, তাই ব্যথিত হবো না; হবো দৃঢ়পদী; ভালবাসবো প্রাণ খুলে, প্রমাণ দেবো কথায়-কর্মে; যদিও চলতে হয় একাকী, তবে তাই চলবো, তবে কি আমি ব্যর্থ? কখখনো নয়।
যুগে যুগে ইসলামের সরল-সঠিক পথে চলা মানুষেরা সমগ্র মুসলিম জাতিকে ভেবেছেন একটি দেহের মত করে, অনুভবে, কর্মে আর ত্যাগের মহিমায়ও সেই সত্যতার সাক্ষী হয়ে তারা আছেন এবং থাকবেন আমাদের সমস্ত চেতনা জুড়ে। সত্য পথের আজকের যাত্রীদেরও তাই এই প্রতিজ্ঞা নিতে হবে- আমরা সমস্ত মুসলিম এক দেহ! এক জাতি। ময়দানের প্রতিটি বাঁকেই আল্লাহ্র সৈনিকদের জন্য ওঁৎ পেতে আছে বাতিলের হিংস্র থাবা। সেখানে যদি বিচ্ছিন্ন হয় অগ্রবর্তী, মধ্যভাগ কিংবা পশ্চাতে চলা কোন সেনানী, তবেই তাকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হতে হবে কালের হায়েনার হাতে। তাই চাই ঐক্য, আল্লাহ্র ভালবাসা পেতে, তাঁরই উদ্দেশ্যে আমাদের জীবনপণ করে গড়ে তুলি শীষাঢালা সুদৃঢ় প্রাচীর; যা ভেদ করার সাধ্য পৃথিবীর কোন শক্তির থাকবে না।
আমরা কি হতে চাই প্রাচীরের এক একটি খুঁটি??????????????
=০=
3 টি মন্তব্য:
Jazakallahu khairun for the nice introduction. :)
The main purpose of this blog is to become 'shudriro prachir', leaving no space between our understanding.
wa iyaaka and thaks for say 'nice'.
yes, the main purpose is "Shudriro Prachir", but where're other parts of this "Prachir" :) ?
& who is this '.......baba', can I know him from you or '....baba' (forget the first part of this name).
(ভালই তো পচা ইংরেজী লিখি)
বন্ধুরা সবাই আসছে না কেন? ওয়ালী কি জেনেছে? শাওন? দূরের কণ্ঠস্বর তো স্পেনে।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন